বিদ্রোহী নিয়ে দুশ্চিন্তায় কাউন্সিলর প্রার্থীরা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণা চলছে। নগরী ছেয়ে গেছে পোস্টার ও ব্যানারে। কিন্তু ভোটারদের মধ্যে কোনো উত্সবের আমেজ দেখা যাচ্ছে না। নীরব রয়েছেন ভোটাররা। তবে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে চরম ব্যস্ততা ও উত্কণ্ঠা দেখা যাচ্ছে। বিদ্রোহী প্রার্থী ও দলীয় কোন্দল নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছেন দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত কাউন্সিলর প্রার্থীরা। অন্যদিকে এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া বিদ্রোহী প্রার্থীরা। নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এলাকায় এলাকায় কিশোর গ্যাং। এতে জনমনে আতঙ্ক আরো বেড়ে গেছে।

চসিক নির্বাচনে এবার মেয়র পদে সাত জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৫৭ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৭২ জন প্রার্থী রয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলেই রয়েছে কম-বেশি বিরোধ। কাউন্সিলর প্রার্থীদের ঘরোয়া যুদ্ধ শেষ হচ্ছে না। দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্তি নিয়ে যুদ্ধের পর এবার বিদ্রোহী ও কোন্দল নিয়ে ব্যস্ত প্রার্থীরা। মেয়র প্রার্থীরা প্রতিদিন প্রচারণা চালালেও কাউন্সিলর প্রার্থীরা দলীয় সমস্যা নিরসনে ব্যস্ত থাকায় প্রচারণায় তেমন সময় দিতে পারছেন না। ফলে তারা চরম উত্কণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।  সাধারণ কাউন্সিলর ছাড়াও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়েও দুই দলে বিরোধ রয়েছে। অনেকেই আছেন একাধিক বার কাউন্সিলর হয়েছেন। আবার অনেকেই নতুন করে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন। কয়েকটি এলাকায় একাধিক চিহ্নিত অপরাধীও এবার প্রার্থী হয়েছেন।

কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে বেশি বিরোধ রয়েছে আওয়ামী লীগের মধ্যে। দলটিতে ১৩/১৪ জন বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই গত বার কাউন্সিলর ছিলেন। এবার দলীয় মনোনয়ন পাননি। ফলে এসব এলাকায় বেশি উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের সরে যেতে দলীয়ভাবে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। দল থেকে বহিষ্কারের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তার পরও বিদ্রোহীদের দমানো যাচ্ছে না। কারণ মনোনয়নপ্রাপ্ত ও বিদ্রোহী সবাই কেন্দ্রিয় প্রভাবশালী নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট। ফলে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর পর থেকে বিরোধ নিরসনের জন্য দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে। যারা দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন তারা ছাড় দিয়ে হলেও বিদ্রোহীদের মাঠ থেকে সরানোর চেষ্টা করছেন।

জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক ও ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জহর লাল হাজারী ইত্তেফাককে বলেন, তাদের ১৩টি ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। তারা মাঠে নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করছেন। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত লোকদের দলীয়ভাবে মূল্যায়ন করে প্রার্থী করা হয়েছে। গত বার কাউন্সিলর হয়েও এবার বাদ পড়াদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। বিদ্রোহীদের মধ্যে অনেকেই যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের পদধারী লোক রয়েছে।

এদিকে বিএনপিতে তেমন বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। প্রথমে প্রতিটি ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরবর্তী সময়ে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তবে ২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর ও লালখান বাজার ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে বিএনপি সূত্র জানায়। তবে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে অনেককে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় কোন্দল রয়েছে। কোন্দল নিরসনের চেষ্টা চালাচ্ছেন দলীয় প্রার্থীরা।

প্রচারণায় কেন্দ্রীয় নেতারা :চসিক নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই প্রার্থীরা প্রচারণা জোরদার করছেন। মেয়র প্রার্থীদের সঙ্গে প্রচারণায় এবার কেন্দ্রীয় নেতারাও অংশ নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল ক?রিম চৌধুরী গতকাল শনিবার নগরীর পাহাড়তলী, লালখান বাজার বাগমনিরাম ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেছেন। এ সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন প্রচারণায় আংশ নেন। দুপুরে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ড ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির যৌথ উদ্যোগে আ?য়ো?জিত মত?বি?নিময় সভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। রেজাউল করিম বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রতিহত করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করতে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে।’ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ প্রমুখ।

এদিকে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন গতকাল উত্তর ও দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেছেন। দুপুরে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চসিক নির্বাচনের পরিবেশ এখনো সবার জন্য সমান হয়নি। ভয়ভী?তি প্রদর্শন করে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা কেন্দ্রে ভোটারের উপ?স্থি?তি কমানোর পাঁয়তারা করছে। ২৭ জানুয়ারি কেন্দ্র দখল ও ভোট কারচুপি ঠেকিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হাসেম বক্কর, বিএনপি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সাইফুল আলম প্রমুখ।