শিক্ষা জাতির
মেরুদণ্ড। আর সেই মেরুদণ্ডের কারিগর শিক্ষকেরা। মা-বাবার পরেই অভিভাবকত্বের জায়গা থেকে একটি শিশুকে আগামী দিনের প্রতিনিধি হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন একজন শিক্ষক। ১৯ জানুয়ারি জাতীয় শিক্ষক দিবস। মানুষ গড়ার কারিগরদের নিয়ে জাতীয় শিক্ষা দিবসে কী ভাবছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারা। তাদের মন্তব্য তুলে ধরেছেন হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী— যোবায়ের
ইবনে আলী
শিক্ষক হলো জাতি গড়ার কারিগর। একজন শিক্ষক তার জ্ঞান, গবেষণা ও নৈতিকতার সাহায্যে একটি জনসমষ্টি গড়ে তুলেন যারা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষকদের মানসম্মত বেতনের ব্যবস্থা করা, অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাদের ভূমিকাকে জনগণকে উপলব্ধি করতে সহায়তা করা, অধিক মেধাবী, পরিশ্রমী, নৈতিকতা সম্পন্ন, তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ শিক্ষক নিয়োগ দিলেই জাতির অধঃপতন থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। নৈতিকতা শিক্ষার পাশাপাশি চর্চার যথাযথ ব্যবস্থা করা সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে মনে করি। ঘোর অমানিশা, অন্ধকার কেটে যাক! ফিরে আসুক জাতির আসল কর্ণধার। শিক্ষক হয়ে উঠুক সব লোভের ঊর্ধ্বে সমাজের আলোকবর্তিকা।
—ছিদ্দিক ফারুক, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর শিক্ষকেরা বটবৃক্ষের ভূমিকা পালন করে আসছেন। করোনাকালীন স্থবির পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল ক্লাসে আমাদের বিড়ম্বনা প্রায়ই প্রকাশিত হয়। একজন শিক্ষক ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মুখ দেখতে পারছেন না, হুট করে ‘জি স্যার’ কিংবা পেছনের দিক থেকে ফিসফিস অস্তিত্ব পাচ্ছেন না এই অপূর্ণতা নিয়ে তেমন কারোর সহানুভূতি দেখা যায়নি। শিক্ষক-সমাজ চাইলে কোনো রকম অভ্যুত্থান ছাড়াই একটা জাতীয় পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। এত বড় ক্ষমতার অধিকারী একজন মানুষ আসলেই নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে অবগত আছেন কি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় পদ কিংবা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়ার মতো ঘটনাতেও শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষকের অবস্থান এ বিষয়ে সন্দিহান করাসহ জাতীয় ভবিষ্যেক বেশ জোরেশোরেই হুমকি দেয়।
—সোলাইমান হাওলাদার, শিক্ষার্থী, নিটার, সাভার, ঢাকা।
একজন শিক্ষক একজন ছাত্রের অভিভাবক। শিক্ষক যে শুধু মাত্র পড়াশোনার ক্ষেত্রেই হস্তক্ষেপ করে ব্যাপারটা এমন না। একজন শিক্ষক একজন ছাত্রকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে, ছাত্রদের মনের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করে তুলে। একটা ছাত্রের জীবনের লক্ষ্য থেকে শুরু করে জীবনের সফলতার প্রত্যেকটা ধাপে শিক্ষকের অবদান অনস্বীকার্য। উনারা ছাত্রের ভালো খারাপ উভয় সময়ে পাশে থাকে। ছাত্রদের মনোবল দৃঢ় করে। বর্তমানে করোনার মতো সংকটময় দিনে তারা যেভাবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষার সংকটকাল কাটিয়ে উঠানোর চেষ্টা করছেন। উনাদের অবদান অপরিসীম। একজন শিক্ষক শুধু শিক্ষকই নয়; শিল্পীও বটে।
—আবুল বাশার, শিক্ষার্থী, হাবিপ্রবি।
মানুষ গড়ার কারিগর হলো শিক্ষক। একটি দেশের মেরুদণ্ডকে শক্ত করে দাঁড়িয়ে রাখার মহান ব্রত নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন তারা। ২০০৩ সাল থেকে ১৯ জানুয়ারি জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। সব শিক্ষকদের জাতীয় শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা। গত দুই দশকে এদেশে শিক্ষার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। পরিবর্তিত হয়েছে শিক্ষানীতি , বদলেছে পাঠদানের প্রক্রিয়া। শিক্ষকরা এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনেকটা সক্ষম, আবার কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থ। সম্প্র্রতি সময়ে করোনা শিক্ষা ক্ষেত্রে ভয়াবহ আঘাত হানে। ভয়াবহতা এড়াতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ‘অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম’ নামক নতুন শব্দের সঙ্গে খুব দ্রুত খাপখাইয়ে উঠে। শিক্ষকরা সব বাধা অতিক্রম করে করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিয়ে যাচ্ছেন।
—সাদমান সাদিক শোভন, শিক্ষার্থী, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, (কুয়েট)।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস শিক্ষকদের সম্মানার্থে পালিত একটি দিন যা বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পালিত হয়ে থাকে। শিক্ষক দিবস একজন শিক্ষকের জন্য অহংকার ও গৌরবের বিষয়। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। এই শিক্ষার মেরুদণ্ড হলেন আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক। শিক্ষক আমাদের আলোকবর্তিকাবাহী ও আমাদের ভবিষ্যত্ জাতির রূপকার। একজন শিক্ষক হলেন জাতির মূলচালিকা শক্তির পরিচালক। তিনি তার শিক্ষার্থীদের শুধু শিক্ষা দেন না, তিনি তার শিক্ষার্থীদের দেন নৈতিক শিক্ষা, অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসা। একজন শিক্ষক শুধু শিক্ষক নন? তিনি আমাদের পিতাও বটে। তিনি আমাদের বন্ধু, পথপ্রদর্শক ও একজন দার্শনিকও বটে।
—শারমিন ইসলাম সিন্ধা, শিক্ষার্থী,যশোর সরকারি মহিলা কলেজ যশোর।