অষ্টম শ্রেণির পড়াশোনা
বাংলা প্রথমপত্র
এইচ.এম. ফেরদাউস হাসান, প্রভাষক মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা
‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’
- শেখ মুজিবুর রহমান
অহিংসার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় গণতন্ত্র যেখানে সবারই সমান স্বাধীনতা থাকে। যেখানে প্রত্যেকেই হবে তার জগত্-নিয়ন্তা। এটাই সেই গণতন্ত্র যাতে আপনাদের আজ অংশগ্রহণ করতে আহ্বান জানাচ্ছি। একদিন আপনারা বোঝতে পারবেন, হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে পার্থক্য ভুলে যাওয়া এবং আপনারা আপনাদের শুধু মানুষ মনে করবেন এবং সবাই একত্র হয়ে স্বাধীনতার আন্দোলনে ব্রতী হবেন।
গ. উদ্দীপকে মহাত্মা গান্ধীর ভাষণে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ, উদ্দীপকটি ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’- ভাষণটি সম্পূর্ণভাব ধারণ করে- মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
প্রশ্নের উত্তর:
গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত মহাত্মা গান্ধীর ভাষণে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি ও স্বাধিকার চেতনার দিকটি ফুটে উঠেছে। বাঙালির মুক্তির লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। সেই ভাষণে তিনি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্যাতন ও শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে জাতিধর্ম নির্বিশেষে বাঙালির জাতীয়তাবোধ ও স্বাধিকার চেতনাকে স্পষ্ট করে তোলেন। উদ্দীপকে মহাত্মা গান্ধীর ভাষণে স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। ভাষণের প্রথম অংশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে সবাইকে তিনি স্বাধীনতার জন্য এক সঙ্গে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে এ দেশের সকল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন।
এক্ষেত্রে মহাত্মা গান্ধী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মনোভাব অভিন্ন। এদিক থেকে উদ্দীপকের মহাত্মা গান্ধীর ভাষণে বঙ্গবন্ধুরই ভাষণের অসামপ্রদায়িক মনোভাবের দিকটিই ফুটে উঠেছে।