বাসে বৃদ্ধ মানুষ ও নারীদের দাঁড়িয়ে থেকে যাতায়াত করাটা খুবই কষ্টকর। এমন কষ্টকর পরিস্থিতি যদি হয় দীর্ঘযাত্রায়, তাহলে কষ্টের শেষ থাকে না। আর বৃদ্ধ মানুষের ক্ষেত্রে এক বাসস্টপেজ থেকে আরেক বাসস্টপেজ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে যাওয়া একেবারেই অসম্ভব। বাসের ব্রেক চাপা মাত্রই সুস্থ, সবল পুরুষ মানুষই একজন আরেকজনের গায়ের ওপর গিয়ে পড়ে। সেখানে নারী ও বৃদ্ধদের অবস্থা বোধগম্য। কখনো কখনো ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে নিচে পড়ে যায়। ফলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করা নারী ও বৃদ্ধ যাত্রীর। মূল্যবোধ বলে একটি কথা আছে, সেটি মানুষের মধ্য থেকে একেবারেই উঠে গিয়েছে। বাসের সিটে বসে থাকা যুবক বয়সি যাত্রীটিও বৃদ্ধ যাত্রীর জন্য সিটটি ছেড়ে সহানুভূতি দেখায় না। এমনকি বাসের মধ্যে অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকার ফলে কাঁধের ব্যাগটিও যখন ভারী মনে হওয়া শুরু হয়, তখন বসে থাকা কোনো যাত্রীকে ব্যাগটি একটু নিয়ে বসতে বললেও অসম্মতি প্রকাশ করা হয়। বাস কনডাকটর বাসে যাত্রী ওঠাতেই ব্যস্ত। ভরপুর যাত্রীর মধ্যে যেখানে পা রাখার জায়গা নেই সেখানে যাত্রীদের শরীর ঘেঁষে ঘেঁষে টাকা সংগ্রহ করে আর সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে নারীর শরীর ছুঁয়ে আনন্দ পায়। বাসে ওঠার সময় নারীর পিঠে হাত দিয়ে ঠেলতে থাকে ‘আপা তাড়াতাড়ি ওঠেন’ বলে। নারী এর প্রতিবাদ করলে উলটা তাকে দু-একটা বিশ্রী গাল শুনিয়ে দিয়ে কাউন্টারে দায়িত্বরত ব্যক্তিকে ডেকে বলে—ও ভাই এই যাত্রীকে আমাদের বাসে তো নিবোই না, অন্য বাসেও যেন যেতে না পারে। নারী অপমানিত হচ্ছে রাস্তাঘাটে প্রকাশ্যে, হচ্ছে শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার শিকার। এসব বিষয়ে বাস মালিক সমিতিরও দৃষ্টি নেই। দূরপাল্লার বাসে যাতায়াতে বৃদ্ধ ও নারীদের আসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে দুর্ঘটনা ও শারীরিক-মানসিক হেনস্তার হাত থেকে তাদের মুক্তি দিতে সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
হোসনেয়ারা খাতুন
শিক্ষার্থী, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া