বইমেলা কবে হবে কেউ জানে না

বৈঠকের পর বৈঠক করেও এখন পর্যন্ত বইমেলার তারিখ নির্ধারণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। গতকাল রবিবার সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ প্রকাশক ও বাংলা একাডেমির সঙ্গে বৈঠকে বসেও বইমেলার সম্ভাব্য কোনো তারিখ নির্ধারণ করতে পারেননি। সবাই এখন বইমেলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন। তবে, যে কোনো পরিস্থিতিতে বইমেলা করার বিষয়ে সবাই ঐক্যমতে পৌঁছেছে। যদিও শীতকাল পেরিয়ে গেলে বৃষ্টির আশঙ্কার মধ্যে বইমেলা হবে কি হবে না— এ নিয়েও নিরাশার দোলাচল রয়েছে প্রকাশকদের মধ্যে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ঝুঁকি বিবেচনায় গত বছরের ডিসেম্বরেই বইমেলা আয়োজন থেকে পিছিয়ে আসে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। করোনা ঝুঁকি কমে আসার পর যেভাবেই হোক বইমেলা হবে—এতদিন ধরে এ কথা বলা হলেও গতকাল ঘটা করে বৈঠক করেও নিশ্চিত কোনো আশার বাণী শোনাতে পারেনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ।

বাংলা একাডেমিতে সভা শেষে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, এবছরের ২০ ফেরুয়ারি, ১৭ মার্চ ও ২৭ মার্চ—বইমেলা শুরুর জন্য প্রকাশকদের প্রস্তাবিত এই তিন তারিখ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে। এরপর তার নির্দেশনা মতো মেলা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরো জানান, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফেব্রুয়ারিতে করোনার ভ্যাকসিন দেশে এলে করোনা পরিস্থিতি আরো নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছি। যদি করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে তাহলে মেলা আরো পিছিয়ে যেতে পারে। জানা গেছে, যদি করোনা সংক্রমণ বাড়ে তাহলে রোজার পরে গড়াতে পারে বইমেলা।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের জন্য আমরা প্রস্তাবিত তিনটি তারিখ পাঠাব। তিনি সিদ্ধান্ত জানাবেন। করোনা ঝুঁকির কারণে আমরা মেলা স্থগিত করেছি, বাতিল করি নাই। প্রস্তাবিত তিন তারিখের পরে মেলা হলে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, রোজার পরে মেলা হলে আবহাওয়াকে মাথায় রেখেই মেলার অবকাঠামো তৈরি করা হবে।

এ প্রসঙ্গে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, আমরা ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত মেলা আয়োজনের প্রস্তাব বাংলা একাডেমি ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে আগেই পাঠিয়েছি। আমরা সে তারিখ থেকে মেলা করার জন্য প্রস্তুত। তবে আমরা আশা করছি মার্চের পর যেন মেলা অনুষ্ঠিত না হয়। কেননা, এরপর রোজা এবং ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা থেকে যায়।

বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি ঢাকা মহানগরের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আমরা শুনেছি। আমাদের প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রী মার্চের মধ্যে মেলা করার অনুমতি দেবেন। মার্চের পর বৈরি আবহাওয়ায় বইমেলার আয়োজন করা সম্ভব নয়।

এদিকে, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে বইমেলার তারিখ নির্ধারণের বৈঠক শুরু হয়। এতে অংশ নেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সংস্কৃতি সচিব মো. বদরুল আরেফীন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী, বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদসহ প্রকাশকদের প্রতিনিধিবৃন্দ।

বইমেলাকে ঘিরে অনুষ্ঠানও বন্ধ থাকছে :হাবীবুল্লাহ সিরাজী

এদিকে, বইমেলা না হওয়ায় ফেব্রুয়ারিতে অমর একুশে গ্রন্থমেলাকে ঘিরে যে অমর একুশে বক্তৃতামালা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় সেসবও স্থগিত করা হয়েছে। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক জানান, একুশে ফেব্রুয়ারির দিন আলোচনা ছাড়া বইমেলা কেন্দ্রিক সকল আয়োজন বন্ধ থাকবে। বইমেলা অনুষ্ঠিত হলে সেসব অনুষ্ঠানমালাও হবে।