হিলি দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ

এইচএস কোড নিয়ে

জটিলতা

হাকিমপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

বুধবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় চাল আসা বন্ধ হয়ে গেছে। আমদানি করা চালের এইচএস কোড জটিলতায় এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র জানিয়েছে। আমদানি করা চাল নিয়ে সর্বশেষ গত মঙ্গলবার এই বন্দরে ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ করে।

বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ জানান, বাংলাদেশে যে কোনো পণ্য আমদানি করার ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট এইচএস (হারমোনাইজড সিস্টেম) কোড থাকে। চাল আমদানির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। আমরা ভারত থেকে চাল (নন-বাসমতী) আমদানি করার জন্য ১০০৬.২০-০০ এই নম্বরবিশিষ্ট এইচএস কোড ব্যবহার করে আমদানি করছি। এর ফলে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ঐ এইচএস কোডে চাল আমদানি করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার ভারতের চাল রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, সরকারি সিদ্ধান্ত (ভারত সরকার) অনুযায়ী তারা এখন ১০০৬.৩০.৯০ এই এইচএস কোড ছাড়া চাল রপ্তানি করবেন না। এ কারণে গত বুধবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দেশে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। বন্দরে চাল খালাস কাজে নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সেরেগুল ইসলাম জানান, বর্তমানে যে এইচএস কোডের মাধ্যমে ভারত থেকে চাল আমদানি করা হচ্ছিল এবং এখন যে এইচএস কোডের মাধ্যমে আমদানির কথা বলা হচ্ছে তা প্রায় একই এইচএস কোড হিসেবে বিবেচিত। এই দুই এইচএস কোডের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য হয় না। সবই হাসকিং মিলের সিদ্ধ চাল এবং একই গুণমানের। তিনি মন্তব্য করেন, চালের রপ্তানিমূল্য বৃদ্ধির জন্য এটা করা হয়ে থাকতে পারে। বন্দরের পানামা হিলি পোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মল্লিক জানান, গত ৯-১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারত থেকে ৫৪টি ট্রাকে মোট ২ হাজার ১৩৩ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল আমদানি করা হয়েছে। এরপর থেকে এই বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ আছে।

দিনাজপুরের হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রিপন রায় জানান, শুনেছি ভারতে চালের এইচএস কোড নিয়ে সমস্যা হয়েছে। তাই তারা হিলি বন্দর দিয়ে চাল রপ্তানি করছে না। এটি তাদের দেশের ব্যাপার। এর আগে গত ৯-১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারত থেকে ৫৪টি ট্রাকে মোট ২ হাজার ১৩৩ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল (নন-বাসমতী) আমদানি হয়েছে। ভারত থেকে আজও (গতকাল রবিবার) কোনো চালের চালান দেশে আসেনি। বন্দরের কাস্টমস কার্যালয় বলছে, দীর্ঘ বছর পর গত ৯ জানুয়ারি থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়। বন্দরের আমদানিকারকেরা প্রতি মেট্রিক টন নন-বাসমতী চাল ৩৫৬ ডলারে আমদানি করছেন। এর ফলে বন্দরের ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করে।