‘দেশে ফেরত প্রবাসীদের প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়ে গেছে’

করোনা মহামারির কারণে দেশে ফেরা প্রবাসী কর্মীদের জন্য সরকার প্রণোদনার ব্যবস্থা করলেও তা প্রাপ্তিতে সমস্যা রয়ে যাচ্ছে। সঠিক কাগজপত্রের অভাবে প্রবাসীরা ব্যাংক ঋণের জন্যও আবেদন করতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতির জন্য ব্যাংকও ঋণ দিতে দ্বিধান্বিত থাকছে। এতে তাদের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যদিও বৈদেশিক আয়ের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে। রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার প্রদত্ত ২ শতাংশ প্রণোদনার কারণে বৈধভাবে টাকা পাঠানোর হার বেড়েছে। গতকাল রবিবার এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম, বাংলাদেশ আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক রেমিট্যান্স প্রবাহ :এত টাকা আসছে কোথা থেকে?’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে ফেরত আসা এই মানুষগুলোর পুনর্বাসনের সঠিক ব্যবস্থা করতে হবে। কোভিড টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি জানান।

সংলাপে সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান বলেন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই প্রবাসীদের অবস্থার ক্ষেত্রে টেকসই কোনো অবস্থান তৈরি হয়নি। তাই নীতিনির্ধারকদের এ নিয়ে কাজ করতে হবে।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) চেয়ারম্যান প্রফেসর তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, নারী প্রাবাসীরা অধিক পরিমাণে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। কারণ কোভিডের কারণে তাদের চাকরি হারানোর হার কম ছিল। ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, যারা ফেরত এসেছেন তাদের কাজ প্রয়োজন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমানে দেশে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পেলেও ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত রাখা কষ্টকর হবে। যারা দেশে ফেরত এসেছেন বা আসতে বাধ্য হয়েছেন, তারা অনেকেই সরকার-ঘোষিত প্রণোদনার আওতায় আসছেন না। এ বিষয়ে তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ফর রাইটস অব বাংলাদেশি ইমিগ্র্যান্টসের (ওয়ারবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক বলেন, যে ক্ষেত্রে কোনো বিনিয়োগ ছাড়া অর্থ আসছে, সেখানে আরো বেশি নজর দেওয়া দরকার।