চলচ্চিত্র নির্মাণে নতুন প্রজন্মের পথিকৃত নির্মাতা ও কবি মাসুদ পথিক। গুণী এই মানুষটির ছবি মানেই পুরস্কারের রেকর্ড। নিজের প্রথম ছবিতেই শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। দ্বিতীয় ছবি নির্মাণ করে পেলেন শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। পাশাপাশি এই নির্মাতার ঝুলিতে জমা পড়েছে বেশকিছু আন্তর্জাতিক পুরস্কার। নিজের ও চলচ্চিত্রের নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
অনেক প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে ‘মায়া:দ্য লস্ট মাদার’ আলোর মুখ দেখেছে। এবার এলো ছবিটির ঘরে রেকর্ডসংখ্যক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এ বিষয়ে একজন সফল নির্মাতার কথা শুনতে চাচ্ছি—
একটা শিল্প বা বা একটা সৃজনশীল কাজ শেষ করতে নানা প্রতিকূলতা আসবেই। আমরাও তেমন নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে ভালো কিছু করতে চেয়েছি এবং ছবিটি রিলিজ করে কিন্তু আমরা সফল হয়েছি। এক যুদ্ধশিশু ও একজন বীরাঙ্গনাকে বিষয়বস্তু করে কবিতা আর ছোটগল্পের অনুপ্রেরণায় যে একটি সৃজনশীল কাজ করেছি, সেটা আমরা আন্তর্জাতিক উত্সবগুলোর সাড়া থেকেই কিন্তু বুঝেছি। আর ছবিটি ৮টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতায় আমরা সকলেই অনেক বেশি খুশি হয়েছি। সামনের কাজে এই অর্জন আমাদের আরো বেশি সাহস আর অনুপ্রেরণা জোগাবে।
আপনার চলচ্চিত্রগুলো মানুষের জীবনবোধের কথা বলে। এম ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণের নেপথ্যে কোনো কারণ আছে কী? এমন গল্পে কাজ করা কতটা চ্যালেঞ্জের?
আমি বিনোদনের জন্য আসলে ছবি নির্মাণ করি না। আমি নির্মাণ করি মানুষের জন্য। নিজের দায়বদ্ধতা থেকে মানুষের কথা, সমাজের কথা, দেশের সার্বিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করি। বলতে পারেন আমি মানুষ, সমাজ বা দেশের কাছ থেকে যা নিই তা আমার কাজের মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। আর কোনো কাজ যখন খুব সূক্ষ্মভাবে করা হয় তখন চ্যালেঞ্জ নিয়েই করতে হয়। এক্ষেত্রে মনোনিবেশ থাকাটা খুবই জরুরি। আমি মনে করি নিষ্ঠার সঙ্গে ভালোবেসে করলে সব কাজই করা সম্ভব।
সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন ইংরেজি ভাষায় চলচ্চিত্র নির্মাণের। হটাত্ এমন সিদ্ধান্তের বিশেষ কোনো কারণ আছে কী?
আমি আসলে জীবনাদর্শনকে তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমাদের সময়ে নতুন কী দার্শনিক চিন্তা আসতে পারে সেটাই বলার চেষ্টা করি। সেটা আমার কবিতা বা চলচ্চিত্র সব জায়গাতেই। আর ছবিটি শুধু ইংরেজি ভাষা নয়, বাংলা ভাষাতেও হবে। মূলত আমাদের দেশের একটি কন্টেন্টকে আন্তর্জাতিকভাবে দেখানোর আকাঙ্ক্ষায় ছবিটি করছি। এটা দার্শনিক চিন্তাধারার একটি ছবি। অন্যান্য দেশের দার্শনিক চিন্তাধারার সঙ্গে আমাদের চিন্তার যে ঐক্য রয়েছে সেটাই দেখানো হবে ছবিটিতে।
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে নতুনদের কাজের ক্ষেত্র কতটা মসৃণ বলে মনে করেন? স্বজনপ্রীতির কথা তো কারো অজানা নয়...
আমাদের দেশে এখন নতুনদের কাজের ক্ষেত্র খুবই ভালো। অনেক ট্যালেন্ট ছেলেমেয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে আসছে। তারা খুব ভালো কাজও করছে। আমি মনে করি বিভিন্ন প্লাটফর্মের মাধ্যমে আগামী ১০ বছরের মধ্যে আমাদের চলচ্চিত্র ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে। আর স্বজনপ্রীতি আগেও কিছুটা ছিল, এখনো আছে এবং থাকবে। এটাকে নিজের যোগ্যতা, সততা আর নিষ্ঠা দিয়েই প্রতিরোধ করতে হবে।
চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা ও নতুন মাধ্যম ওটিটি যুক্ত হওয়ার বিষয়টি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
বিগত প্রায় ১০ বছর হলোই কিন্তু আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা ভালো যাচ্ছে না। তার ওপর এখন করোনা এসেছে। হল ব্যবস্থাপনা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব তো রয়েছেই। তবে এখন যেহেতু নতুন নতুন প্লাটফর্ম আসছে সেহেতু সেগুলো আমাদের গ্রহণ করতেই হবে। ওটিটি বা এ ধরনের অন্যান্য মাধ্যম কিন্তু আমাদের জন্য ইতিবাচক একটি দিক। এর মাধ্যমে নতুন একটা ক্ষেত্র তৈরি হলো। তবে ছবি হলেও মুক্তি দিতে হবে। সবার আগে হল বাঁচাতে হবে। হলই কিন্তু আমাদের সিনেমার প্রাণ।