গুয়েতেমালা সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্র অভিমুখী অভিবাসীদের স্রোত

n  পুলিশের টিয়ারগ্যাস ও লাঠিপেটা n অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আশা, বাইডেন সরকার তাদের আশ্রয় দিতে নমনীয় হবে

 বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র অভিমুখী হন্ডুরাসের হাজার হাজার অভিবাসী রবিবার গুয়েতেমালা সীমান্তে পুলিশি বাধার সন্মুখীন হয়েছে। হন্ডুরাসের গুয়েতেমালা সীমান্তে ঐদিন অভিবাসীদের দল জড়ো হলে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। এসময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ও লাঠিপেটা করা হয়। দেশটির সরকারের তরফ থেকে কঠোর ভাষায় বলা হয়েছে, তারা সীমান্ত পথে কোনো অনুপ্রবেশ বরদাশত করবে না। অন্যদিকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দাবি, পেটের তাগিদে তারা অন্য কোনো পথ খোলা না থাকায় বাধ্য হয়ে এই পথে নেমেছেন। এসময় অনেকেই তাদের মানবেতর জীবনের কথা তুলে ধরেন।

গত কয়েক দিনে সাত হাজারেরও বেশি অবৈধ অভিবাসী (অধিকাংশই হন্ডুরাস থেকে আসা) গুয়েতেমালা সীমান্তে সমবেত হয়। তীব্র দারিদ্র্যের কষাঘাত ও অব্যাহত সহিংসতার কারণে উন্নত জীবনের আশায় তারা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার উদ্দেশে এখানে এসেছে। তাদের লক্ষ্য গুয়েতেমালা থেকে মেক্সিকো হয়ে সীমান্ত পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা। কিন্তু এ অবস্থায় শক্ত অবস্থানে রয়েছে গুয়েতেমালা সরকার। এ কারণে সীমান্তে বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ঐদিন দেশটির ভাদো হোন্ডা গ্রামের সীমান্তে হাজারো লোক জড়ো হয়। অনেকে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে দেওয়াল টপকে গুয়েতেমালায় ঢুকে পড়ে। আরো অনেকে একই চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। একদিন আগেও নিরাপত্তা বলয় টপকে গুয়েতেমালায় ২ হাজার মানুষ ঢুকে পড়ে। গুয়েতেমালার অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, প্রথমসারিতে থাকা একটি ছোট দল নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের অবস্থান কঠোর করলে বাধার মুখে পড়ে অভিবাসীরা। যারা ভেতরে ঢুকে পড়েছে, তাদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংস্থাটির মুখপাত্র আলেজান্দ্রা মিনা বলেন, অভিবাসীদের অধিকাংশই সহিংসতা, করোনা ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। তারা অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে ভালো জীবনযাপনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাদের আশ্রয় দেবেন।