স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত
ইত্তেফাক ডেস্ক
উত্তরাঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত। তীব্র শীতে স্বাভাবিক জীবন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিপাকে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। হতদরিদ্ররা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। ঘন কুয়াশা আর মৃদু শৈত্যপ্রবাহে শীত বেড়ে গেছে। দিনের বেলাও সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চালানো হচ্ছে যানবাহন। বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
কাহারোল (দিনাজপুর) : তীব্র শীতে গত কয়েক দিন ধরে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে চারদিক। বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে পরিবারের লোকজন। রাস্তায় হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। শীতজনিত রোগে প্রকোপ দেখা দিয়েছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এছাড়া গৃহপালিত পশুপাখি নিয়েও বিপাকে পড়েছে খামারিসহ অন্যরা। এদিকে পুরোনো কাপড়ের দোকানে ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। ভ্যানচালক মতিউর রহমান জানান, রাস্তায় বের হলে তীব্র শীতের কারণে যাত্রী পাওয়া যায় না।
সৈয়দপুর (নীলফামারী) : সৈয়দপুরে বইছে মৃদু শৈতপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর হিম বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। দুপুরেও সূর্যের দেখা মিলছে না। দুর্ঘটনা এড়াতে দিনের বেলাও যানবাহনগুলো চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। সর্দি, জ্বর, নিউমনিয়া, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন আউটডোর ও ইনডোরে রোগীরা চিকিত্সা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যায় বেশি। এদিকে প্রচণ্ড শীতের কারণে গরম কাপড় কিনতে ফুটপাতে থাকা কাপড়ের দোকানেগুলোতে ভিড় করছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।
সাঁথিয়া (পাবনা) : শৈত্যপ্রবাহ ও ঘনকুয়াশায় জনজীবনে অনেকটা স্থবিরতা এসেছে। শীতে জীবন ও জীবিকা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। শীতের তীব্রতায় বৃদ্ধ ও শিশুরা দুর্ভোগে পড়েছে। এ সাঁথিয়া উপজেলা হাসপাতালের আরএমও আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঠান্ডাজনিত রোগী আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
মির্জাপুরে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গত কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারনে ঠান্ডাজনিত রোগসহ ডায়রিয়া বেড়েছে। গতকাল সোমবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। কুমুদিনী হাসপাতালের বহিঃবিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, অভিভাবকরা ঠান্ডা জনিত রোগে অসুস্থ্য শিশুদের নিয়ে চিকিত্সার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কুমুদিনী হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. এ বি এম আলী হাসান বলেন, গত বেশ কিছু দিন ধরে প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে শিশুসহ বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম জানিয়েছেন, ঠান্ডাজনিত রোগ প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ ও কাজ করা হচ্ছে।