আওয়ামী লীগে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী জোর প্রচারণায় বিএনপি

আসাদ গাজী, ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) সংবাদদাতা

ভেদরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ জোরেশোরে চলছে। প্রতীক বরাদ্দের পরই প্রার্থীরা পুরোদমে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। এই নির্বাচনে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী থাকায় বিপাকে পড়েছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে একক প্রার্থীর সুবিধা নিয়ে জয়ী হতে চায় বিএনপি। এই পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী রয়েছেন তিন জন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত আব্দুল মান্নান হাওলাদার, বিএনপির বি এম মোস্তফা ও আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী বাসার চৌকদার। উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৩০ জানুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী সমানতালে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। আওয়ামী লীগের কয়েক জন নেতাকর্মী জানান, এবারের পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন কমপক্ষে পাঁচ জন। তাদের মধ্য থেকে দলীয় মনোনয়ন পান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান পৌরসভার মেয়র আব্দুল মান্নান হাওলাদার। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবুল বাসার চৌকদার। পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে এ নিয়ে তিনি দুই বার আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হন। এদিকে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের উত্তেজনার মধ্যে ১৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে দলীয় প্রার্থী আব্দুল মান্নান হাওলাদারের বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় আব্দুল মান্নান হাওলাদারের অন্তত চার জন সমর্থক আহত হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবুল বাসার চৌকদার দাবি করেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। এছাড়া দলের মূল অংশসহ সাধারণ জনগণও আমার পক্ষে। তাই এ নির্বাচনে আমি প্রার্থী হয়েছি। বিএনপির প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বি এম মোস্তফা বলেন, এই নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটারের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভোট দেওয়ার মতো অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। এমন অবস্থা বজায় থাকলে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে ব্যাপক ভোটার উপস্থিত হবেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, ‘আমি এই পৌরসভার পরপর দুই বার নির্বাচিত মেয়র। আমি এই পৌরসভার অনেক উন্নয়ন করেছি। যার ফলে আমাকে আবারও নৌকার প্রার্থী করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস, দলীয় সিদ্ধান্তকে সবাই সম্মান করবে। জনগণের ভোট, দোয়া ও ভালোবাসায় আমি বিজয়ী হব।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবু অনল কুমার দে বলেন, ‘নৌকার প্রশ্নে কোনো বিরোধ রাখা যাবে না। নৌকাকে বিজয়ী করতে দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। যদি কেউ দলের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে তবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’র পক্ষে কাজ না করার জন্য বলা হয়েছে।’

সিংড়া পৌরসভা নির্বাচনে সরব বড় দুই দল

সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, ৩০ জানুয়ারি সিংড়া পৌরসভা নির্বাচন। এ নির্বাচনে উত্সবমুখর প্রচারণায় ব্যস্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প২্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের প্রার্থী, বর্তমান মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রচারণায় ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন। পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি, পথে ঘাটে, বাজার-হাটে প্রচারণায় সময় কাটছে তার। অপরদিকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন পৌর বিএনপির সদস্য সচিব তায়জুল ইসলাম। 

জনগণের মুখোমুখি পাঁচ মেয়র প্রার্থী

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, সুশাসনের জন্য নাগরিক ‘সুজন’ কলারোয়া শাখার আয়োজনে আসন্ন কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচ জন প্রার্থীকে নিয়ে জনগণের মুখোমুখি নামক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সোমবার বেলা ১১টায় কলারোয়া পাবলিক ইনস্টিটিউটের মুক্ত মঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজন কলারোয়া শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) আবু নসর। প্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচ মেয়র পদপ্রার্থী এক মঞ্চে হাজির হয়ে একে একে তুলে ধরেন তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা। সুজন এর খুলনা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রঞ্জুর আহ্বানে সব মেয়র প্রার্থী নির্বাচনি অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করেন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পৌরবাসীকে উপহার দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হন।