ইত্তেফাক রিপোর্ট
মুক্তিযুদ্ধের নিদর্শনের বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে জাতীয় জাদুঘর। গতকাল সোমবার শুরু হয় এই বিশেষ প্রদর্শনী। যাতে উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা, নৃশংসতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও বীরত্বের আখ্যান। জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্পকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ‘মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহূত সমরাস্ত্রের বিশেষ প্রদর্শনী’ চলবে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত।
‘স্বাধীনতা’ অর্জনের পেছনে আছে লাখো মানুষের দুঃখবেদনা, অশ্রু, রক্ত, ক্ষোভ, নির্যাতন আর অপমান এবং অবশ্যই অসম সাহসী লড়াইয়ের উপাখ্যানও জড়িয়ে রয়েছে। আবার মুক্তিযুদ্ধ মানে রণাঙ্গনের যুদ্ধ শুধু নয়। জাতির গৌরবময় এ অর্জনের প্রতিটি পাতায় জড়িয়ে রয়েছে আত্মাহুতি আর নৃশংসতার করুণ ইতিহাস। গণহত্যার বর্বর ইতিহাস। কোটি মানুষের আহাজারি, নারীর ত্যাগ আর মৃত্যু। নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়া পণ। প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে এই রক্তাক্ত ইতিহাসের খণ্ড খণ্ড চিত্র। ছবিতে, দলিল ও নিদর্শনের মধ্যে তুলে ধরা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধকে।
প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধের সংগৃহীত নিদর্শন স্থান পেয়েছে। রয়েছে আলোকচিত্র, মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণাগ্রন্থ। প্রদর্শনীতে আরো স্থান পেয়েছে রণাঙ্গন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা চিঠি। মা-বাবা ও স্ত্রীকে লেখা সেসব চিঠিতে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের আকুতি ফুটে উঠেছে। এ প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত উল্লেখযোগ্য নিদর্শন/ আলোকচিত্রের মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোকচিত্র ৮৮টি, মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর ব্যবহূত সরমাস্ত্র ৮৬টি, আত্মসমর্পণ টেবিল, ভারতীয় বাহিনীর বিভিন্ন ম্যাপ ও লিফলেট আটটি, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের স্মৃতি নিদর্শন পাঁচটি, বঙ্গবন্ধু বিষয়ক গ্রন্থ ১০০টি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ ১০০টি।
গতকাল সোমবার বিকালে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সচিব গাজী মো.ওয়ালি-উল-হক।