>> রেজাউল ইসলাম রেজা
যুগে যুগে যত মানুষ জন্ম নিয়েছে, তারা সবাই একই রক্ত-মাংসে গড়া হলেও তাদের ছোট থেকে বড় হওয়ার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অজস্র অজানা গল্প। কেউ বড় হয়েছে সংগ্রাম করে, আবার কেউ-বা উত্তরাধিকার সূত্রে। তবে জন্মগত এই সৌভাগ্যবান মানুষের সংখ্যা কম হলেও সংগ্রামী মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। আজকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি এমনই একজন মানুষের সঙ্গে, যিনি সমাজের সকল বাধা-বিপত্তিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও নিজ অনুপ্রেরণায় জীবন খাতায় নাম লিখিয়েছেন রেডিও জকি হিসেবে। বলছি জান্নাতুল ইলমী সূচনার কথা।
অসংখ্য রীতিনীতি, নিয়ম-কানুনের এই শহরে তিনিও বড় হয়েছেন অন্য আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতো। মেয়ে হয়ে জন্মালেও ছোট থেকেই ইচ্ছা—ভিন্ন কিছু করার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ার পর অসংখ্য পছন্দনীয় বিষয়ের ভিড়েও সবাইকে চমকে দিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন মনোবিজ্ঞান বিষয়ে। মানুষ ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পড়াশোনা, এমন একটা অসাধারণ বিষয়কে আপন করে নিয়েছেন।
পরিবারের সিদ্ধান্তের বিপরীতে গিয়েও তিনি নিজ আগ্রহে, নিজের পছন্দকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সম্মানের সঙ্গে স্নাতক শেষ করে রেডিও জকি হিসেবে কালারস এফ এম-এ যোগদান করেন। শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলা, উপস্থাপনা করা এবং ছোটবেলার ছোট্ট রেডিও নিয়ে আরজে আরজে খেলা তাকে এতটাই আকৃষ্ট করতো, যা বড় হয়ে এই ইচ্ছাশক্তির বাস্তবায়ন একরকম নেশায় পরিণত হয়। পরবর্তীকালে অজস্র সাক্ষাত্কার নেওয়াসহ অনেক চমত্কার অনুষ্ঠান করার এবং নেটওয়ার্কিং বাড়ানোর সুযোগগুলোকেও কাজে লাগিয়েছেন তিনি।
তবে এই যাত্রা তার জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। পরিবার, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী কিংবা আমাদের সমাজব্যবস্থা প্রতিনিয়ত তাকে তার স্বপ্ন থেকে আলাদা করতে চাইলেও প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি ও দৃঢ় মনোবলের কারণে জান্নাতুল ইলমী সূচনা তার কর্মক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি রেডিও জকি ছাড়াও এপেক্স ফুটওয়্যারের ইন্ডাস্ট্রিয়াল সাইকোলজিস্ট হিসেবে নিযুক্ত আছেন। ইলমী বলেন, ‘কাজের পরিসর আরও বাড়ে যখন মাস্টার্স শেষে এপেক্সে প্রথম ইন্ডাস্ট্রিয়াল সাইকোলজিস্ট হিসেবে কাজ শুরু করি। দশ হাজার শ্রমিক আর অফিসার নিয়ে কাজ। পাবলিক স্পিকিং, মাল্টি টাস্কিং, এমপ্যাথির মতো স্কিলগুলো আমার সেখান থেকে হাতেকলমে শেখা। আর নিজের সবলতা ও দুর্বলতা জানা, নিজেকে চেনা, নিজে কি চাই তা জানা এক্ষেত্রে অনেক জরুরি। তাছাড়া স্বপ্ন দেখতে হয় নিজের চোখ দিয়ে, অন্যের চোখে নয়।’