‘বাংলাদেশে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৭ সালে দেশে মোট আত্মহননকারীর সংখ্যা ছিল ১০ হাজারের কিছু বেশি। ২০১৮ তে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজারে। অপরদিকে সাতক্ষীরায় বছরে গড়ে ২৯০টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। জাপানে এক সময় আত্মহত্যার প্রবণতা অনেক বেশি থাকলেও এখন তা কমে এসেছে। অথচ আমাদের দেশে নানা সামাজিক কারণে এই প্রবণতা বেড়েই চলেছে।’
সোমবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে ‘আত্মহত্যা বিষয়ক কর্মশালা’য় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. সেলিম চৌধুরী এ তথ্য জানান।
বাংলাদেশ পুলিশ এবং ইউনিসেফের জরিপে তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এ অবস্থা থেকে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে হবে। আর এজন্য নিতে হবে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ। কেনো এতো আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে তা খতিয়ে দেখতে উদ্যোগী হতে হবে।’
এদিকে কর্মশালায় সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান জানান, ‘সাতক্ষীরা জেলায় ২০১৮ সালে ২৭৪ টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩০৬ জন। এই হিসাবে এই জেলায় বছরে গড়ে ২৯০টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশের পরিসংখ্যানে এই সংখ্যা বার্ষিক ১৭২ জন বলে কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়।’
আরো পড়ুন: এ সরকার লুটপাট করে বিজয় উৎসব করছে: মির্জা ফখরুল
‘অনীকদের জন্য উদ্যোগ’ শীর্ষক এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি সুভাষ চৌধুরী। এতে বক্তব্য দেন, তালা কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনিন্দিতা রায়, সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরিন, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল খালেক, প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সাংবাদিক হাফিজুর রহমান মাসুম, জেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরী প্রমুখ।
কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ছাড়াও জনপ্রতিনিধিরা অংশগ্রগণ করেন।
ইত্তেফাক/বিএএফ