শেষ মুহূর্তে ব্যাননসহ আরো ১৪০ জনকে ক্ষমা ট্রাম্পের

বিবিসি

ক্ষমতা ছাড়ার একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সাবেক সহযোগী স্টিভ ব্যাননসহ আরো ১৪০ জনকে প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতায় ক্ষমা করেছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানের কয়েক ঘণ্টা আগে ক্ষমার এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

হোয়াইট হাউজের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সব মিলিয়ে ৭৩ জনকে সম্পূর্ণ ক্ষমা করা হয়েছে। এছাড়া আরো ৭০ জনের সাজা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে নিজের বা পরিবারের সদস্যদের জন্য তিনি কোনো ক্ষমা ঘোষণা করেননি। ক্ষমা ঘোষণার ব্যাপারটি হোয়াইট হাউজ থেকে বিদায়ি প্রেসিডেন্টের জন্য একটি নিয়মিত ঘটনা। ক্ষমা ঘোষণা করা হলে তার বিরুদ্ধে থাকা সব ফৌজদারি সাজা বাতিল হয়ে যায়। তিনি কারাদণ্ড কমিয়েও দিতে পারেন।

ট্রাম্প যাদের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করেছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো তার সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন। তিনি ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০১৬ সালের নির্বাচনি প্রচারণার দলের প্রধান কৌশলবিদ। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল তোলার তহবিল জোগাড়ের জন্য চালানো এক প্রচারাভিযানে দাতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে হোয়াইট হাউজের সাবেক চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট ব্যাননের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। গত আগস্টে ব্যাননকে ঐ মামলায় গ্রেফতার করার পর তার বিরুদ্ধে ম্যানহাটনের আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়।

অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে মেক্সিকো সীমান্তে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত দেওয়াল নির্মাণের নামে ‘উই বিল্ড দ্য ওয়াল’ শীর্ষক ঐ প্রচারে অর্থ উঠেছিল ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আর ব্যানন দাতাদের কাছ থেকে পেয়েছিলেন ১০ লাখ ডলারেরও বেশি। এই তহবিলের কিছু অংশ তিনি ব্যক্তিগত কাজেও ব্যবহার করেছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। তার সঙ্গে এ মামলায় আসামি হিসেবে আছেন আরো তিন জন।

ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে যাদের বিভিন্ন অভিযোগে সাজা হয়েছিল, তাদের অনেককেই মেয়াদের শেষ বেলায় এসে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় ক্ষমা করে দিয়েছেন ট্রাম্প। গত নির্বাচনের ফল মেনে না নিতে প্রকাশ্যেই ট্রাম্পকে উত্সাহ দেওয়া ব্যানন নিজে ফোন করে ক্ষমার আবেদন অনুমোদনের জন্য কথা বলেছেন এবং তার বন্ধুরাও এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে একভাবে চাপে রেখেছিলেন। প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতায় ক্ষমাপ্রাপ্ত অন্য উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন, লিল ওয়েইন, কোডাক ব্ল্যাক, কাওমি কিলপ্যাট্রিক, অ্যান্থনি লেভানডোস্কি, রিক রেনজি ও এলিয়ট ব্রোডি।