সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়

স্মার্টফোনে থাকা সামাজিক অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের মনে মিথস্ক্রিয়া সৃষ্টি করছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পোস্টগুলোতে ব্যবহারকারীরা স্মার্টফোনের রিয়েল টাইমের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করছে। মোবাইল ফোনে কল করে যোগাযোগের থেকেও অধিক সময় ব্যয় করছে এ কাজের জন্য। একাকীত্ব ও বিছিন্নতা তৈরি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এতে স্বাস্থ্যের ক্ষতি এতটাই হয় যতটা না স্থূলতা, ধূমপান ও মদ্যপানের  জন্য ক্ষতি হয় তার চেয়েও বেশি।

গণ পরিবহনে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লোক ভ্রমণ করে। ভ্রমণের সময় সাধারণত দলবদ্ধ হয়েই যাতায়াত করে। অনুরূপভাবে স্মার্টফোন ও ট্যাবের মাধ্যমেও তারা হারিয়ে যায় একটি অন্য রকম পৃথিবীতে। বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্যসেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সিগনা ১৮ থেকে ২২ বছরের একটি  দলের উপর গবেষণা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এতে তারা দেখেছে, যারা অধিক পরিমাণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে  তাদের পরিমাণ হলো ৪৩.৫% । এরা সবাই অন্যদের তুলনায় বেশি একাকীত্ব বোধ করে এবং ৪১.৭% রয়েছে যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাপগুলো ব্যবহার করে না। 

ভারতের একটি অনলাইন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিয়েল টাইমের মিথস্ক্রিয়ার সঙ্গে একাকীত্ব বোধকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৯ সালে এসে ভারতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারকারী হয়েছে ২৫৮ মিলিয়ন যা ২০১৬ সালে ছিল ১৬৮ মিলিয়ন। সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক  নেটওয়ার্ক হলো ইউটিউব, ফেসবুক এবং হোয়াসটঅ্যাপ । ২০২১ সাল নাগাদ ভারতে শুধু ফেসবুকের ব্যবহারকারী হবে ৩১৯ মিলিয়ন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবে অনুপরিবারের সৃষ্টি হচ্ছে এবং মানুষের কাজের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ কারণে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে বসবাস করার পাশিপাশি একাকীত্বও বরণ করছে। এশিয়ায় ৩.৪ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে ৭০টি গবেষণানুযায়ী, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে  ফিজিওলোজিক্যাল সায়েন্সের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

একাকীত্বের কারণে হাতাশা ও হূদরোগসহ অনেক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। একা বসবাসকারীদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের সম্ভবনা খুবই কম। স্বাস্থ্যকর খাদ্য, ওষুধ সেবন ও নিয়মমাফিক চলাফেরা প্রায় অসম্ভব। 

লন্ডনের সরকারি তথ্যানুযায়ী ৭৫ বছর বয়সী প্রায় ২ লক্ষ মানুষ কথোপকথন ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যতীত এক মাসের বেশি অবস্থান করে। পিএলওএস মেডিসিন নামের একটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ৩ লক্ষ মানুষের মধ্যে  ১৪৮টি গবেষণা করে দেখা গিয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ফলে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।  এটি শুধু বৃদ্ধদের জন্যই প্রযোজ্য নয়, এটি সব বয়সীর ক্ষেত্রেই হতে পারে।

ইউকের জাতীয় পরিসংখ্যানের ২০১৭ সালে প্রকাশিত তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী সদ্য প্রাপ্ত বয়স্করা অধিক প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  বেশি সক্রিয় থাকে। সদ্য প্রাপ্ত বয়স্কদের বয়স হচ্ছে ১৬  থেকে ২৪ বছরে মধ্যে। এরাই প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় বেশি আবেগপ্রিয়।

সূত্র :হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে মাহবুব শরীফ