প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদকে জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নজিরবিহীন বিরূপ প্রভাব ফেলেছে, যা থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়। তবে শুরু থেকেই তার সরকার সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে, যার ফলে এ পর্যন্ত কোভিড আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, মৃত্যুর হার এবং অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে অধিকতর সাফল্য দেখাতে পেরেছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তরে আহসানুল হক এমপির প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
জাতীয় পার্টির (জাপা) রওশন আরা মান্নান ও সরকারি দলের কাজিম উদ্দীনের পৃথক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, করোনা ভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে অন্য অনেক দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলেও বাংলাদেশ তা অনেকটাই এড়াতে পেরেছে। মহামারি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ায় দেশে অর্থনৈতিক অবস্থা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি একটি সামগ্রিক কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছে।
শেখ হাসিনা জানান, ২০২০ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। জাপার সংরক্ষিত আসনের সদস্য রওশন আরা মান্নানের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চে’র ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল-২০২১ অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন যে ধরনের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহত্ অর্থনীতির দেশ। ২০২০ সালের সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১তম বৃহত্ অর্থনীতির দেশ।
অন্য প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, করোনা ভাইরাসের ৩ কোটি ডোজ টিকা সংগ্রহের কাজ চলছে। শিগিগরই টিকা দেওয়া শুরু হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, খাদ্যশস্য উত্পাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ দশম। বাংলাদেশ আজ চালে উদ্বৃত্ত দেশ। চাল উত্পাদনে বিশ্বে তৃতীয়, সবজি উত্পাদনে তৃতীয়, আলু উত্পাদনে সপ্তম, আম উত্পাদনে সপ্তম, পেয়ারা উত্পাদনে অষ্টম, চাষের মাছ উত্পাদনে পঞ্চম ও ছাগল উত্পাদনে চতুর্থ।
জাপার এমপি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, করোনাকালে বাংলাদেশে এসে আটকে পড়া ও চাকরিচ্যুত প্রবাসীদের নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। প্রবাসী অধ্যুষিত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অনুরোধ জানিয়ে কোভিডকালে চাকরিচ্যুত প্রবাসীদের সার্বিক কল্যাণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ফোনে যোগাযোগসহ চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। চাকরিচ্যুত প্রবাসী কর্মীদের ন্যূনতম খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, চাকরিচ্যুতদের যাবতীয় দেনা-পাওনা পরিশোধসহ ছয় মাসের বেতন-ভাতা দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো এবং ঐ দেশগুলোতে কোভিড-১৯ রিকভারি অ্যান্ড রেসপন্ড ফান্ড গঠন।
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সুলতানা নাদিরার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৯৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৪৭৩টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
সরকারি দলের সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগরের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিবন্ধী ক্রীড়া কমপ্লেক্স স্থাপনের জন্য সাভারের বারইগ্রাম ও দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর মৌজার ১২ দশমিক ০১ একর জমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে।