রাজধানীর পুরান ঢাকায় ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে ৯০ ভরি সোনা লুটের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এস এম সাকিব হোসেন রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। ঐ কর্মকর্তার সঙ্গে এএসআই এমদাদ, সিপাহি আমিনুল ইসলাম, এএসআই আলমগীর হোসেন ও গাড়িচালক ইব্রাহিম জড়িত। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সাকিব হোসেনসহ ঐ চার কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, এই চক্রটি শুধু সোনা নয়, মোটা অঙ্কের টাকাও লুট করেছে। বিশেষ করে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার পর ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তারা টাকা ছিনতাই করে। এছাড়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বিকাশ এজেন্টদের টাকাও ছিনতাই করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রিমান্ডের তথ্য নিয়ে পুলিশ সাকিবের বাসায় অভিযান চালিয়ে বেশকিছু সোনা ও টাকা উদ্ধার করে। তবে তদন্তের স্বার্থে উদ্ধার করা সোনা ও টাকার পরিমাণ জানাতে পুলিশ অস্বীকার করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, সহকারী পরিচালক এস এম সাকিব হোসেনের সঙ্গে আরো কয়েক জন কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি স্বর্ণ লুটের সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেটে অধিদপ্তরের যেসব সোর্স রয়েছে তাদের কাজে লাগানো হয়। সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, কোতোয়ালি থানার জিন্দাবাহার লেনের এক জন স্বর্ণ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন তার দোকান থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সোনা ও টাকা লুট হয়েছে। এ ঘটনায় ঐ ব্যবসায়ীর দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহি আমিনুল ইসলাম ও সোর্স হারুনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্বর্ণ ও টাকা লুটের সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সহকারী পরিচালক এস এম সাকিব হোসেনের সংশ্লিষ্টতার নাম আসে। সোমবার রাতে পুরান ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার ঐ কর্মকর্তাকে আদালতের নির্দেশে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
সূত্র জানায়, ৭ জানুয়ারি সাকিব হোসেন, আমিনুল ইসলাম ও সোর্স হারুন রাজধানীর জিন্দাবাহার লেনের ঐ সোনার দোকানে যান। ডিবি পরিচয়ে তারা ঐ দোকানের মালিককে তুলে নিয়ে যান এবং ৯০ ভরি সোনা লুট করেন। এ ঘটনায় ১২ জানুয়ারি কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী স্বর্ণ ব্যবসায়ী।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মুন্সীগঞ্জের সহকারী পরিচালক এস এম সাকিব হোসেন ১৭ জানুয়ারি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বেসিক ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস কোর্সে অংশ নিতে ঢাকায় আসেন। ৩৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে নিয়োগ পান সাকিব। নবীন কর্মকর্তা হলেও তিনি দাপটের সঙ্গে চলতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন তিনি।