এক টাকা দেনমোহর কি ইসলামে বৈধ?

দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার। স্বামীর জন্য ফরজ বিষয়। মোহর নিয়ে সামাজিক চরম শৈথিল্য একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। সমাজে এমন অনেকে আছেন, যারা নামাজ-রোজা-হজ-জাকাত সম্পর্কে ধারণা রাখলেও মোহরের বিষয়টি নিয়ে সচেতন নন। সে কারণে দেখা যায়, মোহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে চরম ছাড়াছাড়ি পরিলক্ষিত হয়। বিয়েকে স্মরণীয় রাখতে কিংবা উদারতা দেখাতে গিয়ে অনেকেই এক টাকা দেনমোহর বা নামমাত্র অঙ্কে দেনমোহর নির্ধারণ করে বিয়ে করার কৃতিত্ব দেখিয়ে থাকেন। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—‘তোমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নারীদের মোহর দাও।’ (সুরা নিসা :আয়াত ৪)। এক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা হচ্ছে—মোহর এত অল্প নির্ধারণ না করা, যাতে নারীর মর্যাদার কোনো ইঙ্গিত না থাকে। আবার এত অধিকও নির্ধারণ না করা, যা পরিশোধ করা স্বামীর পক্ষে সম্ভব না হয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে দেখা যায়, এক টাকা দেনমোহরে বিয়ে সম্পন্ন কিংবা নামমাত্র অঙ্কের দেনমোহরে বিয়ে করেছে যুবক-যুবতি ইত্যাদি। অথচ হাদিসে পাকে দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ নির্ধারিত রয়েছে। সর্বনিম্ন দেনমোহর হলো ১০ দিরহাম বা ৩০.৬১৮ রুপার সমপরিমাণ মূল্য। হাদিসে এসেছে- ‘১০ (দশ) দিরহামের কম মোহর হতে পারে না।’ (বায়হাকি) অনেক ইসলামিক স্কলারের মতে, যদি ১০ দিরহামের কমে কোনো নারী দেনমোহর নির্ধারণে রাজি হয় তবে এ দেনমোহর ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ হবে না। তবে দেনমোহরের সর্বোচ্চ কোনো পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। ১০ দিরহামের ওপরে যে কোনো পরিমাণ দেনমোহর নির্ধারণ করায় কোনো বাধা নেই। স্বামীকে যেহেতু বাধ্যতামূলক দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে তাই তার সামর্থ্য বিবেচনা করে দেনমোহর নির্ধারণ করা উচিত। নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি ভেবে স্বামীর সামর্থ্যের বাইরে দেনমোহর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। কেননা দেনমোহর পরিশোধ করতে না পারলে স্বামী গোনাহগার হবে। সমাজে প্রচলিত দেনমোহর হলো ‘মোহরে ফাতেমি’। মোহরে ফাতেমিই উত্তম দেনমোহর। হজরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার মোহর ছিল ৫০০ দিরহাম বা ১৫৩০.৯০ গ্রাম রুপা।’ (জাওয়াহিরুল ফাতোয়া)

মোহর কত হওয়া উচিত? ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে নারীর প্রকৃত অধিকার হলো ‘মোহরে মিছাল’। তা হলো ঐ নারীর বংশে তার মতো অন্য নারীদের সাধারণত যে মোহর নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা তার মোহরে মিছাল। যদি তার নিজের বংশে তার মতো আর কোনো নারী না থাকে, তবে অন্য বংশে তার সমপর্যায়ের নারীদের যে মোহর সাধারণত নির্ধারণ করা হয়; সেটাই তার মোহরে মিছাল। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে স্ত্রী মূলত মোহরে মিছালেরই হকদার। সুতরাং মোহর নিয়ে বাড়াবাড়ি যেমন ঠিক নয়, তেমনি ছাড়াছাড়িও ঠিক নয়। নারীকে তার যথাযথ সম্মান দেখানোর মাধ্যমে প্রাপ্য অধিকার ও সম্মানজনক মোহর দিয়ে বিয়ে করাই উত্তম। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সামর্থ্য অনুযায়ী দেনমোহর নির্ধারণ ও তা পরিশোধ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

lলেখক :শিক্ষার্থী, মদীনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসা, রাজশাহী সদর