নতুন করে সরকার ঘোষিত ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা হতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তার লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশনকে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দেশের ১০০টি সম্ভাবনাময় ক্লাস্টারে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন। এ লক্ষ্যে অংশীদার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এসএমই বিভাগের প্রধানদের অংশগ্রহণে গতকাল এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় এ তথ্য জানান এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আজিজুল আলম। এ সময় জানানো হয়, ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং প্রোগ্রামের আওতায় ২৫টি ক্লাস্টার এবং ছয়টি ক্লায়েন্টেল গ্রুপের ২ হাজার ৮৯ জন উদ্যোক্তাকে ১১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নারী-উদ্যোক্তা ৫১৭ জন বা প্রায় এক চতুর্থাংশ। এসএমই ফাউন্ডেশনের ক্রেডিং হোলসেলিং প্রোগ্রামের বৈশিষ্ট্য হলো মূলত এটি জামানতবিহীন ঋণ। মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধযোগ্য এ ঋণের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে র্সবোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা, যা চার বছরে পরিশোধ করতে হয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ফাউন্ডেশন হতে প্রাক-অর্থায়ন করা হয়। তবে এ ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। ঋণের পাশাপাশি উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় নন-ফাইনান্সিয়াল সেবা পেয়ে থাকেন। ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং কার্যক্রমের আওতায় ঋণ বিতরণের জন্য ক্লাস্টার, খাত বা ক্লায়েন্টেল গ্রুপ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশন কর্তৃক চিহ্নিত ক্লাস্টারসমূহের অন্তর্ভুক্ত বা শিল্পনীতি ২০১৬ অনুযায়ী অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী এবং উত্পাদন বা সেবা খাতের সঙ্গে জড়িত এবং যেসব খাত ব্যাংকিং সেবা পরিধির বাইরে কিন্তু কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণে অবদান রাখতে সক্ষম—তাদেরকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম অপেক্ষাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ খাত এবং পরিবেশবান্ধব ও রপ্তানিমুখী খাতকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়।