পুন্ড্র ইউনিভার্সিটির দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত!

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন না থাকলেও বগুড়ায় স্থাপিত বেসরকারি পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে আইন বিভাগে ভর্তি করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা। ঐ ভার্সিটির দেড়শতাধিক শিক্ষার্থী দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এই অবস্থায় পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি আইন বিভাগ একাডেমিক কার্যক্রম চলতি বছরে আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০১৬-১৭ সালে তারা বগুড়ার পুন্ড্র ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে ভর্তি হন। ভর্তির সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তাদের এলএলবি ও এলএলএম কোর্সের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের (ইউজিসি) অনুমোদন রয়েছে। প্রায় দুবছর ক্লাস ও পরীক্ষা দেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন, ইউজিসির কোনো অনুমোদন নেই। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুন্ড্র ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের তত্কালীন ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমানে চেয়ারম্যান হোসনে আরা বেগম তাদের আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছিলেন, ইউজিসির অনুমোদন এবং সিলেবাসেরও অনুমোদন রয়েছে। তবে পরবর্তীতে গত বছর ইউজিসির বিজ্ঞপ্তিতে অনুমোদন না থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শিক্ষার্থীদের আবারও আশ্বাস দেওয়া হয়। এই সময়ে দুটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সব সেমিস্টার সম্পন্ন করলেও তাদের চূড়ান্ত সেমিস্টারের কয়েকটি পরীক্ষা কর্তৃপক্ষ নেননি বলে শিক্ষার্থীরা জানান। অপরদিকে, প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সব পরীক্ষা দিয়েও সনদ পাননি। শিক্ষার্থীরা তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষা ও সনদের দাবি করে প্রতিবাদ জানায়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অন্য বিভাগের সনদ দেওয়ার কথা জানালে তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে এ বিষয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হোসনে আরা বেগম জানিয়েছেন, তারা এ ধরনের কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। অন্য বিভাগে পড়ার কথা বলেছিলেন। শিক্ষার্থীরা জানান, আকস্মিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়াসহ নানা হুমকি দেওয়ায় তাদের ভবিষ্যত্ এখন অনিশ্চিয়তায় পড়েছে। এদিকে চূড়ান্ত পরীক্ষা ও সনদের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেড় শতাধিক বলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে। ১৭ জানুয়ারি বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, শতাধিক শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত পর্বের (সেমিস্টার) পরীক্ষা না নিয়ে কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।  এসব শিক্ষার্থী যেমন পরীক্ষা দিতে পারছে না, তেমনি চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা দেওয়ার পরেও বেশ কিছু শিক্ষার্থী সনদ না পেয়ে প্রতারিত হয়েছেন। এর প্রতিবাদ করায় আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হয়রানির জন্য থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগ করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের হয়রানির কথা অস্বীকার করেছে। ভারপ্রাপ্ত ভিসি অনুমোদন ছাড়া শিক্ষার্থীদের আইন বিভাগে ভর্তি ও পাঠদানের কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন তাদের এখতিয়ারের বাইরে। তারা অনুমোদনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে পুন্ড্র ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত ভিসি অধ্যাপক আ ন ম রেজাউল করিম জানান, শিক্ষার্থীদের বর্তমান শিক্ষাজীবন নিয়ে যে দাবি তা সঠিক। আইন বিভাগে ১৮৩ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও বেশ কিছু শিক্ষার্থী চলে গেছেন। এখন তাদের ইউনিভার্সিটিতে ১১৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তিনি জানান, ইউজিসি থেকে আইন বিভাগের অনুমোদন নেই। কেন অনুমোদন ছাড়া শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলো সে বিষয়ে তিনি জানান, তার সময়ে এটা হয়নি। তবে এটি সঠিক ছিল না। তিনি আরো জানান, ইউজিসির অনুমোদনে এখন বার কাউন্সিল জড়িত। তাই এটি তাদের এখতিয়ারের বাইরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আলাউদ্দিন জানান, একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করা হলেও আইন বিভাগ বিলুপ্ত করা হয়নি। আইন বিভাগের কোর্স অনুমোদনের জন্য তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।