খুপরি ঘর থেকে সেমিপাকা বাড়ি

সুন্দরবনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন মো. ইলিয়াস। সরকারি জায়গায় ছোট একটি খুপরি টিনের ঘর ছিল তার। পরিবারের সদস্যরা মিলে থাকতেন সেখানে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ সিডরের সময় তা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। আশ্রয় নেন অন্যত্র। তারপরে ফের একটা খুপরি ঘর বানান তিনি। জীবিকার জন্য যুদ্ধ করার পাশাপাশি নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়েও ছিলেন চিন্তিত। কখন না আবার সেটিও প্রাকৃতিক দুর্যোগে উড়ে যায়। সেই ইলিয়াসের এবার ভালো মানের একটা আশ্রয় জুটেছে। হয়েছে তার সেমিপাকা ঘর।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রাজাপুর গ্রামে এমনটিই      বলছিলেন ইলিয়াস। মুজিববর্ষে সারা দেশে গৃহহীন মানুষের জন্য এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর উপহার। গৃহহীন, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের জন্য প্রস্তুত ৬৬ হাজার ১৮৯টি ঘর। মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে এই ঘর পাবেন তারা। কাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে এই ঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে প্রথম দফায় এই ঘর ৬৬ হাজার পরিবার পেলেও পর্যায়ক্রমে ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২ গৃহহীনদের প্রদান করা হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ভেতর ঘর পাবে আরো ১ লাখ পরিবার। শুধু শরণখোলা উপজেলার মানুষ পাবেন দুই শতাধিক ঘর। এর মধ্যে ৯২টির কাজ শেষ হয়েছে। ঘর পেয়ে বেজায় খুশি এই এলাকার মানুষ। এখানকার দরিদ্র মানুষকে আলাদা করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গেও প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়। এমনই একজন অর্পণা রানী। তিনি বলেন, আগে খুপরি একটা টিনের ঘরে ছিলাম। সামান্য বৃষ্টি আসলেই ঘরে পানি উঠত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে উপহার দিয়েছেন তা আমাদের জন্য স্বপ্নের মতো।

জানা গেছে, সারা দেশে ৬৪টি জেলার তৃণমূল পর্যায়ে কমিটির মাধ্যমে তালিকা করে ছিন্নমূল ও দুস্থ, গৃহহীন পরিবারকে এ ধরনের বিশেষ ঘর দেওয়া হচ্ছে। নির্মাণকৃত সেমিপাকা ঘরের মধ্যে রয়েছে দুটি রুম, একটি বসার ঘর, একটি টয়লেট এবং একটি রান্নাঘর। প্রধানমন্ত্রীর উপহার সম্পর্কে  শরণখোলা উপজেলার চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত বলেন,  এই উপজেলায় প্রায় ২ লাখ মানুষ। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার মানুষ গৃহহীন। এরা ঘর পাওয়ায় তাদের জীবন বদলে যাবে। সাধারণ ঘূর্ণিঝড় সহনীয় করে এসব ঘর বানানো হয়েছে। তবে এখানে আরো সাইক্লোন শেল্টার দরকার। শরণখোলা উপজেলার ইউএনও মোস্তফা শাহিন বলেন, এখানে বেশির ভাগ দরিদ্র, অসহায়, আইলা, সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত, প্রতিবন্ধী, গৃহহীন মানুষকে ঘর দেওয়া হচ্ছে। ঘর পাওয়ার পর তাদের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হবে। এই ঘরের জন্য তাদের অনেক খরচ করতে হতো। কিন্তু এই ঘর পাওয়ায় তারা এই টাকা অন্য কাজে লাগিয়ে নিজের জীবনের পরিবর্তন ঘটাতে পারবে।