নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, বসুরহাট পৌর নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হয়নি প্রমাণ করতে পারলে আমি শপথ নেব না। আমার মামা বিএনপি প্রার্থী কামাল চৌধুরী ভোটের দিন বলেছিলেন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হচ্ছে। ভোটের পরের দিন ওনার সঙ্গে দেখা করতে গেলে, উনি আমাকে অভিনন্দন জানান, জামায়াত প্রার্থী মোশাররফ হোসাইনও আমাকে অভিনন্দন জানান। তিন দিন পর আমার মামা বললেন ডিজিটাল কারচুপি হয়েছে। বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গার বিএনপি প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, ভোট কারচুপি হয়েছে। তাই আমার মামা সুর পালটিয়ে বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপে বলেছেন নির্বাচন কারচুপি হয়েছে। সমবেত ভাইয়েরা এটাকে বলে রাজনীতি। আপনাদের সব কেন্দ্রে সব বুথে এজেন্ট ছিলেন, আমি গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম সবার এজেন্ট আছে কিনা? সবাই বলল আছে। এতকিছু করার পরও নির্বাচনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন।
আবদুল কাদের মির্জা বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বসুরহাট রূপালী চত্বরে সব ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অনিয়ম উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গণশুনানি করে ঘুষ বন্ধ করে জনসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি আদায় করেন। এ সময় করতালি দিয়ে শত শত জনতা মেয়রকে অভিবাদন জানান। আবদুল কাদের মির্জা আরো বলেন, বিএনপি হলো কমলাপুর রেল স্টেশনের দল, বিভিন্ন দল থেকে এসে এ দলে লোকজন একত্রিত হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় এক নেতা আমাকে বলেন, ভাগিনা আমাদের ৫০ বছরও ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই। এতে বুঝা যায়, জামায়াতে ইসলাম বাংলাদেশে আগামী ৫০ বছর কোলবালিশ হিসেবে থাকবে।
মামলার প্রতিবাদে কাদের
মির্জার সংবাদ সম্মেলন
এদিকে মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে বসুরহাট রূপালি চত্বরে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আবদুল কাদের মির্জা বলেন, আমাকে মামলার ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, অতীতেও আমার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা হয়েছে। আমি এসব মামলা ভয় করি না। আমি অপরাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এতে কেউ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করলে আমার কিছু বলার নেই। যত বাধাই আসুক আমি সাহস করে সত্য কথা বলব। সত্য বচনে একটুও পিছপা হব না। আমি আদালতে গিয়ে এ মামলার মুখোমুখি হব, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
গতকাল সকালে একরাম চৌধুরী ও সামছুদ্দিন জিহানের পক্ষে নোয়াখালী সদর ১০ নম্বর অশ্বদিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে নোয়াখালীর সিনিয়র বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট কোম্পানীগঞ্জ আমলি আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। ২৪ জানুয়ারি বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।