দুপুরবেলা। দুই রিকশাচালক ভাড়া নামিয়ে ক্লান্ত হয়ে রাস্তার ধারের একটি ছোট্ট চায়ের দোকানের বেঞ্চে এসে বসল। একজন উঠে গিয়ে প্লাস্টিকের ঝোলানো প্যাকেট থেকে একটি পাউরুটির টুকরো বের করতে করতে বলল, বুঝলি বাদশা, ম্যালাদিন রিকশা চালাই নাই।
বাদশা কপাল থেকে ঘাম মুছতে মুছতে বলল, ক্যা, তোর কি করোনা হইছিল নাকি?
কইতে পারি না, মাঝখানে জ্বর আইছিল। ফার্মেসিতে গিয়া কইলাম জয়নাল ভাইয়ের কাছে। সে কইল, কয়েক দিন আইসোলেশনে থাক। গাড়ি চালানোর দরকার নাই।
বাদশা নিজেও উঠে একটা বোয়ামের ভেতর থেকে সল্টেজ বিস্কুট বের করতে করতে বলল, আমি তো লকডাউনের সময় বাইরই হই নাই। আগে বাঁচা লাগবি, পরে কামাই। তোর বউয়ের কী অবস্থা শহীদ, হ্যায় কি সৌদি আরবে?
শহীদ আগ্রহ নিয়ে বলল, না আইসে তো! তয় কোরেন্টিনে আছে। ১৪ দিনের কোরেন্টিন।
প্যান্ট শার্ট পরা এক লোক দাঁড়িয়ে ওদের কথা শুনছিলেন। তিনি বললেন, তোমরা যে কোরেন্টিন, আইসোলেশন, করোনা, লকডাউন এইসব কইতেছো—এর মানে জানো?
শহীদ উচ্চগলায় বলল, জানুম না ক্যা?
এগুলো যে বিদেশি শব্দ তা জানো?
বাদশা অবাক হয়ে বলল, কন কী, বিদেশি শব্দ নি? তার মুখে তখনো পাউরুটির টুকরো। সে হা হয়ে আছে।