মমতাকে চ্যালেঞ্জ একদা ঘনিষ্ঠ শুভেন্দু অধিকারীর

একদা মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ অনুগামী শুভেন্দু অধিকারী দল বদলে বিজেপিতে গিয়ে তাকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন। বললেন, বিজেপি চাইলে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হতে পারেন তিনি। আর মমতা ব্যানার্জি শুভেন্দুর নির্বাচনি কেন্দ্র নন্দীগ্রামে যদি দাঁড়ান তাহলে তাকে ৫০ হাজার ভোটে হারাবেন।

পশ্চিম মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস ২০০৭ সালে সিপিএমকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল। তারই ফল ২০১১ সালে বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটে জিতে ক্ষমতা দখল। সেই আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে উঠে এসেছিলেন মমতা ব্যানার্জির ‘অতি বিশ্বস্ত’ শুভেন্দু অধিকারী। শুধু নন্দীগ্রাম নয়, দুই মেদিনীপুর জেলায় সিপিএমের দুর্গ ভেঙে তৃণমূলের জয় পতাকা প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০০৯ সালে নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ফিরোজা বিবি জেতেন ৪০ হাজার ভোটে। শুভেন্দু নিজে নন্দীগ্রাম যে লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সেই তমলুক থেকে জেতেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ভোটে। পাঁচ বছর পর ব্যবধান বাড়িয়ে করেন ২ লাখ ৪৬ হাজার।

নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রেও তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের ব্যবধান ক্রমশ বেড়েছে। ২০১৬ সালে শুভেন্দু অধিকারী এই কেন্দ্র থেকে ৮১ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতে পশ্চিমবঙ্গের পরিবহন মন্ত্রী হন। ২০১৯ সালে বিজেপি প্রবল প্রতিপক্ষ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে উঠে এসেছে। সেই সময়েও তমলুক লোকসভা আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারী (শুভেন্দু অধিকারির ভাই) ১ লাখ ৯০ হাজার ভোটে জিতেছেন।

যে নন্দীগ্রাম থেকে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান, সেখানে ১৪ বছর পর হঠাত্ উলটো হাওয়া। অভিমানে মমতা ব্যানার্জির পাশ থেকে সরে বিজেপিতে শুভেন্দু। ছুড়ে দিচ্ছেন চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে নন্দীগ্রামেই প্রার্থী হতে চাইছেন মমতা।

নন্দীগ্রামে ৪০ শতাংশ মুসলিম ভোটার। এক ঢিলে দুই পাখি মারার লক্ষ্য নিয়ে সেখানে প্রার্থী হতে চান মমতা। তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর, ১৯৬৭ সালে অজয় মুখার্জি বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেসের নেতা হিসেবে যুক্তফ্রন্টের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। তার পর মেদিনীপুর থেকে কেউ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হননি। নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হলে মেদিনীপুরবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হবে। দুই মেদিনীপুরের ৩৫ আসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখাও সহজ হবে।

শুভেন্দু নন্দীগ্রামে চ্যালেঞ্জ পেয়ে মমতার দিকে পালটা তীর ছুড়ছেন। তার বাবা এবং ভাই মেদিনীপুর থেকে জিতে তৃণমূলের এমপি। আরেক ভাই এমএলএ। তারা কী করবেন, মনস্থির করেননি। এই পরিস্থিতিতে তিনি মমতা ব্যানার্জির জেতা আসন কলকাতার ভবানীপুরে বিজেপির প্রার্থী হতে চাইছেন। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জি ভবানীপুর থেকে ২৫ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছিলেন। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের ফল অনুযায়ী তার দল তৃণমূল কংগ্রেস ভবানীপুর কেন্দ্রে এগিয়ে ছিল মাত্র ৪ হাজার ১৬৮ ভোটে। বিজেপি মনে করছে, এই আসনে তাদের জেতার সম্ভাবনা রয়েছে।