কারা কর্মকর্তার কক্ষে নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটালেন হলমার্কের জিএম

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে হলমার্ক কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমদের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ সাক্ষাতের ঘটনা ঘটেছে। কারাগারের ডেপুটি জেলারের কক্ষে সেই সাক্ষাতের সময় কয়েক জন কারারক্ষীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি ঐ কক্ষের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়ার পর কারা অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ডেপুটি জেলারের কক্ষে তুষার আহমেদ অপেক্ষা করছিলেন কারা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে। দুই কারা কর্মকর্তা কক্ষ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর বেগুনি রঙের সালোয়ার কামিজ পরিহিত এক নারী ঐ কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে তুষার ঐ নারীকে জড়িয়ে ধরেন এবং সেই দৃশ্য ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়। ঐ নারী তুষার আহমদের স্ত্রী বলে কারা সূত্র নিশ্চিত করেছে। ৬ জানুয়ারি কারাগারের সিসি ক্যামেরায় এ চিত্র ধরা পড়ে।

ঘটনা তদন্তে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ১২ জানুয়ারি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। আর ২১ জানুয়ারি তিন সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া  গেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন গঠিত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালাম। ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে ডেপুটি জেলার মোহাম্মদ সাকলাইন, সার্জেন্ট আব্দুল বারী ও প্রধান কারারক্ষী খলিলুর রহমানকে প্রত্যাহার করে কারা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

কারাগারের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কারাগারের প্রবেশ পথে কর্মকর্তাদের কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায় কালো রঙের জামা পরে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাফেরা করছেন হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তুষার আহমেদ। এর পর তিনি ডেপুটি জেলারের কক্ষে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরই বেগুনি রঙের সালোয়ার কামিজ পরা এক নারী সেখানে আসেন। কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায় ও ডেপুটি জেলার সাকলাইন তখন সেখানে ছিলেন। তাদের সহযোগিতার বিষয়টিও সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে।