মো. কামরুল ইসলাম সোহাগ,
দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
দশমিনায় অবশেষে ইউপি চেয়ারম্যানের দখলে থাকা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ উদ্ধার করা হয়েছে। দশমিনা উপজেলার ১০২ নম্বর মধ্য চরবোরহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দখল করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন ঐ ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজির আহম্মেদ সরদার। ‘বিদ্যালয়ের কক্ষ দখল করে ইউপি চেয়ারম্যানের বসবাস’ শিরোনামে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় চলতি মাসের ১৪ তারিখ একটি সংবাদ প্রকাশ হলে প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। চলতি মাসের ১৭ তারিখ শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা পটুয়াখালী জেলার সহকারী কমিশনার মো. এরফান উদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক পত্রের আলোকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া ফেরদৌস উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে এ বিষয়ে এক দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমিন ও সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. আল মামুন গত ১৯ জানুয়ারি বুধবার ১০২ নম্বর মধ্য চরবোরহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। তারা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দখল করে রাখার সত্যতা পান। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঐ ইউপি চেয়ারম্যানকে দুই দিনের মধ্যে শ্রেণিকক্ষের দখল ছাড়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান শ্রেণিকক্ষের দখল না ছেড়ে ছিলেন বহাল তবিয়তে। পরে ‘বিদ্যালয়ের দখল ছাড়েননি সেই ইউপি চেয়ারম্যান! রয়েছেন বহাল তবিয়তে’ এই শিরোনামে চলতি মাসের ২০ তারিখ দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় আরেকটি সংবাদ প্রকাশ হয়। এই খবর প্রকাশের পরে ঐ দিনের মধ্যেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সমন্বয়ে একটি টিম ইউপি চেয়ারম্যানের দখলে থাকা শ্রেণিকক্ষগুলোর যাবতীয় মালামাল অপসারণ করে কক্ষগুলো উদ্ধার করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজির আহম্মেদ সরদার জানান, আমার দখলে থাকা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে দিয়েছি। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমিন জানান, ইউপি চেয়ারম্যানের দখল থেকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দখলে নিয়েছি। ঐ ভবন তালাবদ্ধ করে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে চাবি দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া ফেরদৌস জানান, চেয়ারম্যানের দখলে থাকা শ্রেণিকক্ষ দখলমুক্ত করে চাবি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।