ঘর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন ওরা

মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর ও জমি বিতরণ কার্যক্রমের প্রথম ধাপ গতকাল শনিবার শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় সরকারের মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ঘর ও জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উত্সবমুখর একটি পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ঘর ও জমি পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারগুলো। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ জানায়। গতকাল ৬৯ হাজার ৯০৪টি পরিবার পেয়েছে আধা পাকা বসতঘর।

সিলেট অফিস জানায়, সদর উপজেলায় প্রায় দেড় হাজার গৃহহীন-ভূমিহীনের কাছে ঘরের দলিল হস্তান্তর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। পরে তিনি সদর উপজেলায় নির্মিত কয়েকটি ঘর পরিদর্শন করেন।

এ উপলক্ষ্যে সিলেট সদর উপজেলা সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দেশের গৃহহীন-ভূমিহীনদের বিনা মূল্যে নবনির্মিত বসতঘর প্রদান বিশ্বে নতুন সূচনা সৃষ্টি করেছে। মন্ত্রণালয়ের সহকর্মীরা এক দিনের বেতন এই প্রকল্পে দান করতে পেরে আনন্দিত। এই প্রকল্প শেষ হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নতির জন্য কাজ শুরু করবে সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজি মহুয়া মমতাজ।

বরিশাল অফিস জানায়, গতকাল বেলা ১১টায় নগরীর সিঅ্যান্ডবি রোডের সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহসহ অন্যরা গৃহহীনদের হাতে ঘর ও জমির দলিল তুলে দেন। ঘর ও জমির দলিল পেয়ে খুশি বলে জানিয়েছেন ভূমিহীনেরা। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার অমিতাভ সরকার, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুসসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক জানান, জেলার ১০ উপজেলায় ১ হাজার ৫৫৬টি ঘরের মধ্যে ১ হাজার ৯টি ঘর ও জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হলে পরে বিতরণ করা হবে।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের জমি ও ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে  রেলপথমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, সমাজে একা নয়, সবাই মিলে ভালো থাকতে চাই। ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর করতে চাই।  এ সময় জেলা প্রশাসক ড. সাবিনা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক ড. সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, জেলায় ১ হাজার ৫৭ জনের মধ্যে ঘর বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া জেলার মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা-উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অর্থায়নে আরো ১১ জনকে এসব ঘর প্রদান করা হয়।

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর জানান, প্রথম পর্যায়ে রংপুর বিভাগের আট জেলায় স্বপ্নের নীড় পেল  ৯ হাজার ১৯৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমন উপহার পেয়ে আবেগে আপ্লুত এসব পরিবারের সদস্যরা। গতকাল রংপুরে ৮১৯টি, দিনাজপুরে ৩ হাজার ২২টি, কুড়িগ্রামে ১ হাজার ৪২৯টি, গাইবান্ধায় ৮৪৬টি, নীলফামারীতে ৪৮১টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ৭৮৯টি, পঞ্চগড়ে ১ হাজার ৫৭টি ও লালমনিরহাটে ৭৫২টি পরিবার ঘর পেল।