অসুস্থ দেহ নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে দ্বিধাবোধ করি না, কিন্তু যখন জীবনে ব্যর্থতা আসে, দুশ্চিন্তায় হাস্যোজ্জ্বল পৃথিবীকে বিভীষিকাময় মনে হয়, তখনো বিপর্যস্ত, হতাশাগ্রস্ত মন নিয়ে নিজেকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলতে নারাজ আমরা। ব্রিটেনের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস ও এক্সারসাইজ বিষয়ক শিক্ষক ড. নেডাইন স্যামি বলেছেন, ‘আমাদের নিজেদের মনের ওপরে বিশেষ খেয়াল রাখা দরকার। তাঁর মতে, ‘আত্মসচেতনতা বাড়িয়ে মনের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো সম্ভব।’ কিন্তু বিস্ময়করভাবে নিজের আবেগ, অনূভুতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমরা প্রচণ্ড উদাসীন। ১৯৪৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ‘কেবল নীরোগ থাকাটাই স্বাস্থ্য নয়, বরং শারীরিক, মানসিক, আত্মিকভাবে ভালো থাকার নামই স্বাস্থ্য।’ কিন্তু সেখানে আমরা মানসিক সুস্বাস্থ্যকে অগ্রাহ্য করে দৈহিক সুস্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিয়ে নিজেরে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী দাবি করি!
সর্বশেষ ২০১৮-১৯ সালের মানসিক স্বাস্থ্য জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১৭ শতাংশ বা দুই কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মানসিক রোগে ভুগছে। অথচ অবাক করা তথ্য হচ্ছে, এদের শতকরা ৯২ শতাংশ মানুষ মানসিক চিকিত্সা গ্রহণ করছে না। ভেবে দেখুন, এত বৃহত্ সংখ্যক মানুষ অসুস্থ; অথচ তারা চিকিত্সকের শরণাপন্ন হচ্ছে না। ফলে আত্মহত্যা অতি পরিচিত শব্দে পরিণত হচ্ছে!
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেখলা সরকার বলেছেন, ‘যে কোনো শারীরিক রোগকে বাংলাদেশে স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখলেও মানসিক সমস্যাকে এখনো ঠাট্টা, বিদ্রূপ বা হালকা বিষয় ভাবা হয়। তাছাড়া মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞর সংখ্যাও নগণ্য।’ করোনাকালীন সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের পক্ষ থেকে সবাইকে মানসিকভাবে দৃঢ় থাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করার চিরাচরিত বদঅভ্যাস তো আমাদের সত্তায় মিশে আছে, যার নিমিত্ত ২০২০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ২৭ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী রয়েছে ১১ জন।
মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন হওয়ার সময় কি এখনো আসেনি! পর্যাপ্ত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সময়ও কি আসেনি!
মো. জাওয়াদুল করিম
মনোবিজ্ঞান তৃতীয় বর্ষ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ