বরগুনার বামনায় আত্মীয়স্বজনদের বিরুদ্ধে এতিম তিন বোনের বসতভিটা দখলের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন বেদখল পৈতৃক বসতভিটা না পেয়ে গতকাল সকালে তারা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের নিচে আমরণ অনশনে বসেন। জানা গেছে, উপজেলার রামনা ইউনিয়নের গোলাঘাটা গ্রামের পিতা-মাতহীন এতিম পোশাকশ্রমিক মোসা. রুবি আক্তার তার দুই বোনকে বাড়িতে রেখে লেখাপড়াসহ ভরণপোষণের যাবতীয় খরচ জোগান। মাথা গোঁজার সামান্য ঠাঁইটুকুও তাদের নেই। বাবা আ. রশিদ প্রায় ১৮ বছর আগে মারা গেছেন। একমাত্র ভাই মো. আল-আমীন ২০১৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। মা মারা যান গত ২০১৭ সালে। পিতৃ সম্পত্তি জোর জবরদখল থেকে মুক্ত করতে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও চেয়ারম্যান মেম্বরদের কাছে বহুবার গিয়েও কোনা সুফল পাননি অসহায় ঐ নারী ও তার দুই বোন।
রুবি আক্তার জানান, গোলাঘাটা গ্রামের মো. কিসলু মিয়া, মো. শাহজাহান, মো. আশ্রাফ আলী ও আ. মান্নান তার নিকটাত্মীয়। বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের ভার বহন করতে জীবিকার তাগিদে রুবি আক্তার ও তার ভাই আল আমীন চট্টাগ্রামে চলে যান। সেখানে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার ভাই মারা যায়। বাড়িতে অসহায় দুই বোন ও মা থাকায় তার ঐ চার নিকটাত্মীয়রা তাদের জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছে। জমি বুঝে দেওয়ার জন্য তাদের বহুবার বলার পরেও কোনো সুরাহা হয়নি। এর মধ্যে মা মারা যাওয়ায় তারা আরো বিপাকে পড়েন। এরপর ঐ আত্মীয়রা তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেন। এক পর্যায়ে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করলেও কোনো বিচার পাননি। তাই কোনো উপায় না পেয়ে সে এই অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন।
এক ভোগদখলকারী চাচাতো ভাই মো. শাহজাহান জানান, আমরা রুবি আক্তারদের কোনো জমি ভোগ দখল করিনি। তার বাবা আমাদের কাছে কিছু জমি বিক্রি করেছেন। এখনো ওদের বসত ঘরটি পড়ে আছে। সেখানে এসে ওরা থাকতে পারে।
এ ব্যাপারে রামনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ. খালেক জমাদ্দার এর মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি অসুস্থ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।