চট্টগ্রামে প্রায় ৩০০ অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। শর্ত না মেনে বিভিন্ন স্থানে কৃষিজমিতে নির্মিত হয়েছে এসব অবৈধ ইটভাটা। এসব ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠের মাধ্যমে ইট পোড়ানো হচ্ছে। সনাতন পদ্ধতিতে নির্মিত এসব ইটভাটার কারণে মারাত্মকভাবে বায়ুদূষণ ও খেতের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে সম্প্রতি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন। পরিবেশ অধিদপ্তর জানান, ২০১২ সালের পর থেকে আধুনিক প্রযুক্তি সংযুক্তি ছাড়া ইটভাটার লাইসেন্স নবায়ন বা নতুন অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। চট্টগ্রামে বৈধ লাইসেন্সধারী ইটভাটা রয়েছে প্রায় ৬০টি।
চট্টগ্রামে বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ের কাছাকাছি অসংখ্য ইটভাটা রয়েছে। এছাড়া কৃষিজমিতেও অসংখ্য ইটভাটা গড়ে উঠেছে। কৃষিজমিতে ইটভাটা করার নিয়ম নেই। তার পরও কৃষিজমিতে ইটভাটা গড়ে উঠছে। দীর্ঘদিন যাবত্ নিয়ম না মেনে ইটভাটা গড়ে উঠলেও প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ইটভাটাগুলোতে সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে ইট পোড়ানোর কাজে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইট পোড়ানোর জন্য আধুনিক প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে। যেগুলো দিয়ে ইটভাটা করলে পরিবেশের ক্ষতি হবে না। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে চট্টগ্রামে সীমিতসংখ্যক ইটভাটা চালু রয়েছে। এসব ইটভাটায় শুধু কয়লা ব্যবহার ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু ইটভাটাগুলোতে সনাতনী পদ্ধতিতে নির্মিত চুলায় ইট পোড়ানো হচ্ছে। এতে বিষাক্ত ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।
জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, ‘জমিতে ইটভাটা করার বিষয়টি আমরা দেখি না। তবে লাইসেন্স প্রদানের সময় সরকারি অনুমোদনকারী সংস্থা আমাদের কাছ থেকে প্রস্তাবিত জমির ধরন নিয়ে তথ্য জানতে চাই। জমিটি কয় ফসলি। চট্টগ্রামে কৃষি জমিতে অসংখ্য ইটভাটা রয়েছে। তবে আধুনিক পদ্ধতিতে ইট পোড়ানো হলে পরিবেশ বা ফসলের ক্ষতি হয় না। বর্তমানে অধিকাংশ ইটভাটায় সনাতনী পদ্ধতিতে ইট পোড়ানোর কারণে আশপাশের জমিতে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। আমরা কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণে নিরুত্সাহিত করছি।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইটভাটা করার নানা শর্ত রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ করে ইটভাটা করা সম্ভব নয়। উল্লেখযোগ্য শর্তের মধ্যে রয়েছে পাহাড়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতি এলাকা থেকে ১ কিলোমিটার দূরে ইটভাটা নির্মাণ করতে হবে। সাগর থেকে বালু তুলে বালু ও সিমেন্ট মিশিয়ে ইট তৈরি করতে হবে। জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, সরকারের শর্ত পুরোপুরি মেনে দেশে ইটভাটা করা সম্ভব নয়। নতুন প্রযুক্তি দিয়ে ইটভাটা নির্মাণ আমাদের জন্য কঠিন। কৃষি জমির মাটি ব্যবহার করা যাবে না। সাগর থেকে বালু এনে সিমেন্ট মিশিয়ে ইট তৈরি করতে হবে। ইটভাটা করা জন্য বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন থেকে অনুমোদন নিতে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হয়। গত ২০১২ সালের পর থেকে প্রশাসন ইটভাটার লাইসেন্স নবায়ন করছে না।’
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক জমির উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল ২০১২ সালের মধ্যে সব ইটভাটায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ ইটভাটা সনাতনী পদ্ধতিতে ইট পোড়ানো হচ্ছে। ২০১২ সালের পর যারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে না তাদের লাইসেন্স নবায়ন করা হচ্ছে না। ফলে এখন উচ্চ আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান শুরু কয়েছে। চট্টগ্রামে ৬০টি বৈধ ইটভাটা রয়েছে। আরো ১০/১২টি লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযানে ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় কয়েকটি অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অর্থ জরিমানা আদায় করা হয়েছে। চট্টগ্রামে প্রায় ৩০০ অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। তার মধ্যে ৫০/৬০টি নানা কারণে বন্ধ রয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’