দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে সাত দিনে ৬২ ঘণ্টা ফেরি বন্ধ

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ঘন কুয়াশার কারণে গত শনিবার রাত ১০টা থেকে গতকাল রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। কুয়াশার ঘনত্ব কমে এলে  ফের ফেরি চলাচল শুরু হয়।  কিন্তু দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাড়ে নদী পারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। তীব্র শীতে অ্যাম্বুলেন্স, যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

এদিকে গত সাত দিনে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে মোট সাড়ে ৬২ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এর মধ্যে গত রবিবার আট ঘণ্টা, সোমবার সাড়ে ১০ ঘণ্টা, মঙ্গলবার সাড়ে আট ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার আট ঘণ্টা, শুক্রবার সাড়ে ৯ ঘণ্টা, শনিবার ছয় ঘণ্টা এবং রবিবার ১২ ঘণ্টা ফেরি বন্ধ ছিল।

ঘাটসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ছোট-বড় বিভিন্ন গাড়ি ফেরি পারাপার হয়। কিন্তু সেই ফেরিগুলোতে ঘন কুয়াশার মধ্যে চলাচলের ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন আলোক নিক্ষেপের বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতি বছর শীত মৌসুমে কুয়াশাকালীন সময়ে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। মাত্র তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ঐ নৌপথ পাড়ি দিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে ভোগান্তির শিকার হন বিভিন্ন গাড়ির চালকসহ হাজার হাজার যাত্রী।

জানা গেছে, ঘন কুয়াশার মধ্যে নৌপথে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য ২০১৫ সালের জুন মাসে নৌ মন্ত্রণালয় টেন্ডারের মাধ্যমে ১০টি ফেরিতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ফগলাইট’ স্থাপন করে। সাড়ে ৭ হাজার কিলোওয়াটের প্রতিটি ফগলাইট ক্রয় বাবদ খরচ হয় অর্ধকোটি টাকার ওপরে। অথচ কুয়াশায় আগের সার্চ লাইটে নৌ চ্যানেলের মার্কার যতটুকু দেখা যায়, নতুন স্থাপিত ঐ ফগলাইটে তাও দেখা যায় না। ফলে মূল্যবান ঐ ফগলাইটগুলো কুয়াশায় ফেরি চলাচলে কোনো কাজেই আসছে না। স্থাপনের পর থেকে সেগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) সহকারী মহাব্যবস্থাপক  মো. জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে দীর্ঘ সময় জুড়ে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে যানজট সৃষ্টি হয়ে আছে।

বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক মাহবুব হোসেন বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে নৌদুর্ঘটনা এড়াতে শনিবার দিবাগত রাত ১০টায় ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়। রবিবার সকাল ১০টায় কুয়াশার ঘনত্ব কমে এলে ফেরি চলাচল শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ফেরি বন্ধ থাকায় এ নৌরুটে যানবাহনের দীর্ঘ সিরিয়াল সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ নৌরুটে ছোট-বড় ১৬টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।