স্পোর্টস রিপোর্টার
ম্যাচের আগের দিন সাগরিকার উইকেটে রানের জোয়ার দেখার আশা করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সহকারী কোচ রডি এস্তউইক। এ ক্যারিবিয়ানের প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। চট্টগ্রামে গতকাল পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলেছেন স্বাগতিকদের চার ব্যাটসম্যান। ওপেনিংয়ে অধিনায়ক তামিম ইকবালের হাফ সেঞ্চুরির পর একই পথে হাঁটেন সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ওয়ানডেতে একই ইনিংসে বাংলাদেশের চার ব্যাটসম্যানের পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলার ঘটনা এটি তৃতীয় বার।
মিরপুরে ২০১৪ সালে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩২৬ রান। এনামুল হক বিজয়ের সেঞ্চুরির সঙ্গে ইমরুল কায়েস ৫৯, মুমিনুল হক ৫১, মুশফিক ৫১ রান করেন। তবে গতকালকের ম্যাচটির সার্থক প্রতিরূপ দেখা গেছে ২০১৫ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। ঐ ম্যাচে তামিমের ৯৫ রানের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহ ৬২, মুশফিক ৬০, সাকিব ৫২ রান করেন।
গতকাল চট্টগ্রামে উইন্ডিজদের বিরুদ্ধে তামিম ৬৪, সাকিব ৫১, মুশফিক ৬৪ ও মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ৬৪ রান করেন। ওয়ানডেতে একই ইনিংসে বাংলাদেশের তিন ব্যাটসম্যানের ঠিক ৬৪ রান করার ঘটনা এটিই প্রথম বার। তবে সমানসংখ্যক রান করার ঘটনা আগেও অনেক ছিল।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ১২০ রানের জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ (৩-০) করার গৌরব নিয়েই মাঠ ছাড়ে তামিম বাহিনী। ওয়ানডেতে প্রতিপক্ষকে ১৪তম বার সিরিজের সব কয়টি ম্যাচে হারাল বাংলাদেশ। আইসিসির ওডিআই সুপার লিগেও ৩০ পয়েন্ট পেল টাইগাররা।
লিটন দাস (০), শান্ত (২০) সুবিধা করতে না পারলেও চার হাফ সেঞ্চুরিতে প্রত্যাশিতভাবেই ৬ উইকেটে ২৯৭ রানের বড় স্কোর গড়েছে বাংলাদেশ। কিছুটা আক্ষেপ অবশ্য থেকে যাচ্ছে কোনো সেঞ্চুরি না আসায়। তামিম, সাকিবের ইনিংসটা তিন অঙ্কে যেতেই পারত। তামিম ৪৯তম, সাকিব ৪৮তম হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। তাদের জুটিতে আসে ৯৭ রান। আলজারি জোসেফের বলে পুল করতে গিয়ে তামিম ক্যাচ দিয়েছেন। রেইফারের বল লেগ সাইডে পাঠাতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন সাকিব। তবে তাদের গড়ে ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে শেষ দিকে দ্রুত রান তুলেছেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ। পঞ্চম উইকেটে তারা গড়েন ৭২ রানের জুটি। ৪৭ বলে মুশফিক ৩৯তম ও ৪০ বলে মাহমুদউল্লাহ ক্যারিয়ারের ২২তম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ৫৫ বলে ৬৪ রান করে ম্যাচ সেরা হন মুশফিক।
আগের দুই ম্যাচের তুলনায় ব্যাটিংয়ে কিছু রান তুলতে সমর্থ হয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। গতকাল ৪৪.২ ওভারে ১৭৭ রানে অলআউট হয় সফরকারী দল। রোভম্যান পাওয়েল সর্বোচ্চ ৪৭, এনক্রুমা বনার ৩১, রেইফার ২৭ রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে সাইফউদ্দিন ৩টি, মুস্তাফিজ-মিরাজ ২টি করে, তাসকিন-সৌম্য ১টি করে উইকেট পান।
স্কোরকার্ড
টস : ওয়েস্ট ইন্ডিজ
বাংলাদেশ রান বল ৪ ৬
তামিম ক হোসেন ব জোসেফ ৬৪ ৮০ ৩ ১
লিটন এলবিডব্লিউ জোসেফ ০ ৪ ০ ০
শান্ত এলবিডব্লিউ মায়ার্স ২০ ৩০ ৩ ০
সাকিব ব রেইফার ৫১ ৮১ ৩ ০
মুশফিক ক জোসেফ ব রেইফার ৬৪ ৫৫ ৪ ২
মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ৬৪ ৪৩ ৩ ৩
সৌম্য রানআউট (হোসেন) ৭ ৮ ০ ০
সাইফউদ্দিন অপরাজিত ৫ ২ ১ ০
অতিরিক্ত (লেবা ৪, নো ৩, ওয়াইড ১৫) ২২
মোট (৫০ ওভারে ৬ উইকেট) ২৯৭
উইকেট পতন : ১-১, ২-৩৮, ৩-১৩১, ৪-১৭৯, ৫-২৫১, ৬-২৮৩।
বোলিং : জোসেফ ১০-০-৪৮-২, হার্ডিং ১০-০-৮৮-০, মায়ার্স ৭-০-৩৪-১, রেইফার ১০-০-৬১-২, হোসেন ১০-০-৪৬-০, মোহাম্মদ ৩-০-১৬-০।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : (লক্ষ্য ২৯৮)
ওটলে ক মুশফিক ব মুস্তাফিজ ১ ৮ ০ ০
অ্যামব্রিস এলবিডব্লিউ ব মুস্তাফিজ ১৩ ১৪ ২ ০
বনার ব সাইফউদ্দিন ৩১ ৬৬ ২ ০
মায়ার্স এলবিডব্লিউ ব মিরাজ ১১ ২৩ ২ ০
মোহাম্মদ ক মুশফিক ব সাইফউদ্দিন ১৭ ৩৬ ১ ০
পাওয়েল এলবিডব্লিউ ব সৌম্য ৪৭ ৪৯ ২ ২
হ্যামিল্টন ক মুশফিক ব মিরাজ ৫ ১৬ ০ ০
রেইফার ক অ্যান্ড ব তাসকিন ২৭ ৪৬ ১ ০
জোসেফ রানআউট (শান্ত) ১১ ৭ ০ ১
হোসেন ক মুশফিক ব সাইফউদ্দিন ০ ২ ০ ০
হার্ডিং অপরাজিত ১ ১ ০ ০
অতিরিক্ত (বাই ১, লেগ বাই ২, নো ২, ওয়াইড ৮) ১৩
মোট (৪৪.২ ওভারে অলআউট) ১৭৭
উইকেট পতন : ১-৭, ২-৩০, ৩-৪৭, ৪-৭৯, ৫-৯৩, ৬-১১৭, ৭-১৫৫, ৮-১৭৪, ৯-১৭৫, ১০-১৭৭।
বোলিং : সাইফউদ্দিন ৯-০-৫১-৩, মুস্তাফিজ ৬-০-২৪-২, তাসকিন ৮.২-১-৩২-১, মিরাজ ১০-২-১৮-২, সাকিব ৪.৫-০-১২-০, মাহমুদউল্লাহ ২-০-১১-০, সৌম্য ৩.১-০-২২-১, শান্ত ১-০-৪-০।
ফল : বাংলাদেশ ১২০ রানে জয়ী
সিরিজ : ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ উইন্ডিজ
ম্যাচ সেরা : মুশফিকুর রহিম
সিরিজ সেরা : সাকিব আল হাসান
প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাইয়ের
১৪ সিরিজ
প্রতিপক্ষ রেজাল্ট সাল
কেনিয়া ৪-০ ২০০৬
কেনিয়া ৩-০ ২০০৬*
জিম্বাবুয়ে ৫-০ ২০০৬
স্কটল্যান্ড ২-০ ২০০৬
আয়ারল্যান্ড ৩-০ ২০০৮
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩-০ ২০০৯*
নিউজিল্যান্ড ৪-০ ২০১০
নিউজিল্যান্ড ৩-০ ২০১৩
জিম্বাবুয়ে ৫-০ ২০১৪
পাকিস্তান ৩-০ ২০১৫
জিম্বাবুয়ে ৩-০ ২০১৫
জিম্বাবুয়ে ৩-০ ২০১৮
জিম্বাবুয়ে ৩-০ ২০২০
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩-০ ২০২১
(* চিহ্নিত সিরিজগুলো দেশের বাইরে,
বাকি সব দেশের মাটিতে)