উইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ

করোনার ধাক্কা সামলে ১০ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন। সফলতম ফরম্যাট ওয়ানডেতে মাশরাফি বিন মুর্তজার অধ্যায় পেরিয়ে নতুন যুগের শুরু তামিম ইকবালের নেতৃত্বে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ‘পোস্টার বয়’ সাকিব আল হাসানের ফেরা। আইসিসি ওডিআই সুপার লিগে নাম লেখান। এক সিরিজে সব মিশনে পূর্ণতার স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলটা খর্ব শক্তির হলেও হোম সিরিজে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে শতভাগ সফল টাইগাররা। গতকাল চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে উইন্ডিজদের ১২০ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। পয়া ভেন্যু জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ৩-০ তে ওয়ানডে সিরিজ জয় তথা ক্যারিবিয়ানদের হোয়াইটওয়াশ করেছে তামিমবাহিনী। যা উইন্ডিজদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বার। ওয়ানডেতে এটিসহ ১৪তম বার প্রতিপক্ষকে এক সিরিজের সবকটি ম্যাচেই হারাল বাংলাদেশ।

মাশরাফির তৈরি করা সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্বে অধিনায়ক তামিমের শুরুটাও হলো দুর্দান্ত। তিন ম্যাচে ১১৩ রান ও ৬ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতে প্রত্যাবর্তন   রাঙিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব। যদিও গতকাল কুঁচকিতে টান পড়ে ৪.৫ ওভারের বেশি বোলিং করতে পারেননি। ব্যথা কতটা গুরুতর তা আজ সকালেই বুঝতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সাকিব।

ওডিআই সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে বাংলাদেশ। টানা তিন জয়ে এসেছে ৩০ পয়েন্ট। ৪০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া, দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ। ভারতে অনুষ্ঠেয় ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে এই লিগ শেষে সেরা আটে থাকতে হবে টাইগারদের।

ঢাকায় লো স্কোরিং, ম্যাড়ম্যাড়ে দুই ম্যাচের পর চট্টগ্রামে রানের জোয়ার দিয়ে সিরিজ শেষ করেছে বাংলাদে৬শ। গতকাল আগে ব্যাট করে চার হাফ সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ২৯৭ রান করেছিল স্বাগতিকরা। লোকাল বয় তামিম করেছেন ক্যারিয়ারের ৪৯তম হাফ সেঞ্চুরি। তার দেখানো পথে হেঁটে সাকিব ৪৮তম, মুশফিক ৩৯তম, মাহমুদউল্লাহ ২২তম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ওয়ানডেতে এটিসহ তৃতীয় বার একই ইনিংসে বাংলাদেশের চার ব্যাটসম্যান পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেললেন।

তামিম ৬৪, সাকিব ৫১, মুশফিক ৬৪, মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ৬৪ রান করেন। সফরকারীদের পক্ষে আলজারি জোসেফ, রেইফার ২টি করে উইকেট পান। আগের দুই ম্যাচের তুলনায় ভালো করলেও গতকাল রান তাড়া করতে নেমে ৪৪.২ ওভারে ১৭৭ রানে অলআউট হয় উইন্ডিজরা। রোভম্যান পাওয়েল ৪৭, এনক্রমা বনার ৩১, রেইফার ২৭ রান করেন। বাংলাদেশের সাইফউদ্দিন ৩টি, মুস্তাফিজ-মিরাজ ২টি করে, তিন বছর আগে ওয়ানডে খেলা তাসকিন ও সৌম্য ১টি করে উইকেট পান। মিডল অর্ডারে রানের চাকায় গতি ফেরানো মুশফিক ৫৫ বলে ৬৪ রান করে ম্যাচ সেরা হন।