চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিন গতকাল সোমবার বিভিন্ন সংগঠন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, ব্রিফিং প্রদান ও বহদ্দারহাট এলাকার আশপাশে প্রচারণা চালিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, বিএনপি মূলত জনসমর্থন হারিয়ে, জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে ‘অজুহাত ও অভিযোগ পার্টিতে’ পরিণত হয়েছে।
বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদা?তের নির্বাচনি এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের প্রশাসনিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে বিএনপির অভিযোগের ব্যাপারে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমরা কাদের এজেন্ট হিসেবে মনোনীত করেছি তা যেমন কোনো মিডিয়ায় প্রকাশ করিনি, তেমনি বিএনপি কাদের এজেন্ট হিসেবে রাখছে তা কেউ জানে না। তাহলে কীভাবে তাদের এজেন্টদের হয়রানি করা হবে তা আমাদের বোধগম্য নয়।’ তিনি বলেন, ‘যদি কারো বিরুদ্ধে মামলা থাকে এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে প্রশাসন খোঁজে বা গ্রেফতারের পদক্ষেপ নেয়, সেটা এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী করতেই পারে। এ ব্যাপারে আমাদের কারো কিছু করার নেই।’
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লী?গের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম না?ছির উ?দ্দীন ব?লেন, বিএনপি আস?লেই কোনো এ?জেন্ট দি?চ্ছে কি না, কিংবা আ?দৌ নির্বাচন কর?তে চায় কি না, তা এখ?নো প?রিষ্কার নয়।
গণসং?যোগে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপ?তি অ্যাডভোকেট ইব্রা?হিম হো?সেন চৌধুরী বাবুল, সাংগঠ?নিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, প্রচার সম্পাদক শ?ফিকুল ইসলাম ফারুক, তথ?্য ও প্রযু?ক্তিবিষয়ক সম্পাদক চন্দন ধর, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লী?গের তথ?্য ও প্রযু?ক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, দ?ক্ষিণ জেলা কৃষক লীগের সভাপ?তি মো. আ?তিকুর রহমান, মহানগর জাতীয় শ্রমিক লীগের সহসভাপ?তি সফর আলী প্রমুখ।
এদিকে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে কিছু অতি-উত্সাহী পুলিশ কর্মকর্তা নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করছে। মাস্তান, সন্ত্রাসী, ইয়াবা ব্যবসায়ী আর পুলিশের অতি-উত্সাহী কিছু কর্মকর্তা পরিকল্পিতভাবে হামলা, মামলা, গ্রেফতার চালিয়ে যাচ্ছেন। গত রবিবার রাত পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আমাদের ৬৯ জন নেতাকর্মীকে তুলে নিয়ে গেছে। এখনো বাসায় বাসায় তল্লাশি ও ধরপাকড় অব্যাহত আছে।’ তিনি গতকাল সোমবার সকালে চসিক নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এখন ভোটের কালচার নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষের আর ভোটের ওপর আস্থা নেই, যার পরিপ্রেক্ষিতে গত মার্চ থেকে আমরা দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। নির্বাচনবিমুখ মানুষদের আবার ভোটকেন্দ্রে আনার চেষ্টা করেছি। গত দশ মাস করোনার সময়েও মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নগরবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছি কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার জন্য। অথচ নির্বাচনের ঠিক দুই দিন আগে মাস্তান, চাঁদাবাজ, ইয়াবা ব্যবসায়ী দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ ঘোলাটে করার পাঁয়তারা চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অতি-উত্সাহী পুলিশের দ্বারা শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করা হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, নগর বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, নাগরিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক একরামুল করিম, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য মীর মো. হেলাল উদ্দিন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ আজিজ, চাকসু ভিপি নাজিম প্রমুখ।
শেষ দিনেও নৌকার পক্ষে
তারকাদের ভোট প্রার্থনা
ঢাকার রূপালী পর্দার জনপ্রিয় একঝাঁক তারকারা নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে গতকাল সোমবার প্রচারণার শেষ দিনেও চট্টগ্রাম নগরী চষে বেড়িয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর পক্ষে তারা এই প্রচারণা চালান। তারকারা ট্রাকে করে নগরীর ব্যাপক এলাকায় প্রদক্ষিণ করেন এবং জনসাধারণের মধ্যে নৌকা প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেন। প্রচারণায় অংশ নেন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন পরিচিত মুখ নায়ক ফেরদৌস, রিয়াজ, নায়িকা পূর্ণিমা, সুইটি, চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত মাহবুব রহমান রুহেল প্রমুখ।