অঘোষিত নৌ ধর্মঘট রাতে প্রত্যাহার

সারা দেশে আকস্মিকভাবে ঘোষিত ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন নৌযান শ্রমিকেরা। রাজধানীর সদরঘাট থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার এক মামলায় নৌ আদালতে দুই শ্রমিকের জামিন বাতিলের জেরে কোনো ঘোষণা ছাড়াই অঘোষিত এ ধর্মঘট শুরু করে তারা। সোমবার দুপুর থেকে ঢাকা নদী বন্দর (সদরঘাট)সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকেরা পন্টুন থেকে লঞ্চ সরিয়ে নদীর মাঝ বরাবর চলে যায়। আগাম ঘোষণা ছাড়া লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। নৌযান শ্রমিকদের এমন কর্মকাণ্ডে বিরুদ্ধে সদরঘাটে বিক্ষোভ করেন যাত্রীরা। তবে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক জানিয়েছেন, আলোচনাসাপেক্ষে নৌ-ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে আদালতের রায়ের প্রতি সবার সম্মান প্রদর্শন করা উচিত ছিল। শ্রমিকদের কোনো দাবি থাকলে তা আইনগতভাবে আদালতে জানাতে পারতেন। যাত্রীদের জিম্মি করা দাবি আদায়ের হাতিয়ার হতে পারে না।

আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, যেই ঘটনায় দুজনকে মাস্টারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে তা জামিনযোগ্য অপরাধ। কিন্তু তাদেরকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে শ্রমিকেরা লঞ্চ চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। কাজ না করার অধিকার তাদের রয়েছে।

গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-বরিশাল রুটের এমভি         অ্যাডভেঞ্চার-১ ও এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯ নামের দুই লঞ্চের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনা তদন্তে দুই লঞ্চের চালক জামাল ও রুহুল আমিনকে দায়ী করা হয়। এ নিয়ে নৌ আদালতে মামলা হলে তারা জামিনে ছিলেন। সোমবার জামিনের মেয়াদ বাড়াতে নৌপরিবহন অধিদপ্তরে অবস্থিত নৌ-আদালতে গেলে তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠান বিচারক। এ ঘটনায় বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কয়েকজন শীর্ষ শ্রমিক নেতা তাদের জামিনের জন্য নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপ দেন। এতেও কাজ না হলে সোমবার দুপুর থেকে লঞ্চ সরিয়ে নিতে শুরু করেন। সদরঘাট থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, শরীয়তপুরসহ অন্যান্য জেলার লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বরিশাল অফিস জানিয়েছে, যাত্রীবাহী নৌযানে আকস্মিক ধর্মঘটে গতকাল বেকায়দায় পড়েন দূরপাল্লার হাজার হাজার যাত্রী। সোমবার বিকাল থেকে ঢাকা-বরিশাল রুটের সব নৌযান বরিশাল নদী বন্দরের পন্টুন থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।