এসএসসির সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি প্রকাশ

স্কুল-কলেজের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় খোলারও প্রস্তুতি চলছে। তবে খোলার জন্য সরকারি নির্দেশনার প্রয়োজন হবে। নির্দেশনা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলা যায়—সে লক্ষ্যে সব ধরনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কত শিক্ষার্থী রয়েছেন, হলে আসন কত, হলে শিক্ষার্থীরা কতটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন—এসব বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। তবে অতি দ্রুততার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলা প্রয়োজন বলে মনে করছেন উপাচার্যরা।

এদিকে করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য পরিমার্জিত নতুন পাঠ্যসূচি প্রকাশ করেছে সরকার। গতকাল সোমবার পুনর্বিন্যাস করা এ পাঠ্যসূচি প্রকাশ করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম চলছে। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সরাসরি এসে পরীক্ষাও দিচ্ছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস চালুর পরই শিক্ষার্থীরা হলে আসবেন। তখন শিক্ষার্থীরা কতটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন—এটা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ কারণে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খোলার জোর প্রস্তুতি চলছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে পুরোদমে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে হলগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হবে। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। নির্দেশনা পেলেই খুলে দেওয়া হবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমিত পরিসরে সশরীরে ক্লাসপরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে এখন শেষের পথে। এখন আমরা খুলব ক্লাস নেওয়ার জন্য। সরকার যখন অনুমতি দেবে                 তখন আমরা দূরত্ব বজায় রেখে কীভাবে ক্লাস পরীক্ষা নেওয়া যায়—তা ডিনদের নিয়ে আলোচনা করছি। তিনি বলেন, যেন মাত্রাতিরিক্ত ভিড় না হয় তার জন্য ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে রোটেশন করা হবে। সপ্তাহে পাঁচ দিন পাঁচ বর্ষের শিক্ষার্থীরা আসবেন। যে দিন প্রথম বর্ষ আসবে সেদিন অন্য কোনো বর্ষ আসবে না। আবার যেদিন দ্বিতীয় বর্ষ আসবে সেদিন আর অন্য কোনো বর্ষের শিক্ষার্থীরা আসবে না।’

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শহীদুর রশীদ ভুইয়া বলেন, ‘আমরাও প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। বিভিন্ন আবাসিক হল, লাইব্রেরিসমূহও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। সরকারি নির্দেশনা পেলেই খোলা হবে। আমরা ধারণা করছি—ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে খোলার জন্য নির্দেশনা আসতে পারে।’

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সচিব ফেরদৌস জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের চাহিদার আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা, হলের আসন সংখ্যার তথ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠিয়েছি। তবে কবে নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

তবে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা জারি করলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও খুলবে। তবে এজন্য ইউজিসির কোনো পরামর্শের প্রয়োজন নেই। তারা নিজেরাই তাদের সিদ্ধান্ত নেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো পরীক্ষা হচ্ছে। তবে পুরোপুরি খুললে হলগুলোও খুলতে হবে। সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অনেক কঠিন হবে। আমার পরামর্শ থাকবে, সব বিভাগ একসঙ্গে খুলে না দিয়ে পর্যায়ক্রমে খুলতে হবে। আর প্রথম দুই সপ্তাহ সীমিত আকারে খুলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। এতে প্রথম দিকেই একবারে হলগুলোতে চাপ পড়বে না।’

বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যদের সংগঠন ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ’-এর সভাপতি এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অনুমোদন দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েই ক্যাম্পাস ত্যাগ করবেন। হলে থাকতে পারবে না। এখন সরকার হল খোলার অনুমতি দিলেই বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি চালু হবে। আমরা এখন সেই নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছি।

এসএসসির নতুন পাঠ্যসূচি প্রকাশ :জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য নতুন পাঠ্যসূচি তৈরি করেছে। সংক্ষিপ্ত এ পাঠ্যসূচি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে গতকাল একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য তিন থেকে চার মাসে প্রস্তুতি নেওয়া যাবে এমন একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে। যার ভিত্তিতে এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে অটো পাশের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনোরকম স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যেভাবে আন্দোলন করছেন এই ক্ষেত্রে বরং করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। সব রকমের স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। সুতরাং এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

প্রসঙ্গত, দেশে গত ৮ মার্চ করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। কওমি মাদ্রাসা ছাড়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি রয়েছে। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির শুরুতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। কিন্তু মহামারির কারণে এবার পরীক্ষার সময় পিছিয়ে যাচ্ছে।