পৌর নির্বাচনে মাঠে নেতা-কর্মীদের ‘লাঠি কাটা’ ও ‘লাঠি খেলা’ দেখানোর নির্দেশনা দিয়ে আলোচনায় এসেছেন রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। তানোর উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত কর্মীসভায় তার দেওয়া ৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও গতকাল সোমবার ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
ঐ ভিডিওতে ওমর ফারুক চৌধুরীকে বলতে শোনা যায়, ‘প্রতিটা কেন্দ্রে আমার নির্বাচনের সময় ২০০৮ সালে বলেছিলাম, ১০০, ১৫০, ২০০ করে লাঠি কেটে রাখবেন। বলেছিলাম না? ২০০৮ সালের কথা এটা। ঐ ফর্মুলা নিতে হবে মাথায়। লাঠি কেটে রাখতে হবে। যদি ভোটের দিন ব্যবহার করতে হয়, যদি ভোটের দিন ব্যবহার করার দরকার পড়ে, তাহলে ব্যবহার করবেন। না হলে ভোটে বিজয়ী হওয়ার পরে ঐ লাঠি খেলা হবে। শালা আওয়ামী লীগের খাও, আর আওয়ামী লীগের গায়ে থুথু ফেলো? ... এখনো সময় আছে, শালা ঘরে উঠে যাও সব। যদি না উঠো আমার নেতাকর্মী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতাকর্মী জানে কীভাবে এদেরকে ঘরে তুলতে হয়। আমরা আঠারো সালেই দেখিয়ে দিয়েছি কীভাবে কাকে ঘরে ঢুকায়ে দিতে হয়। জানা নাই? হয় আট সালের ফর্মুলা না হলে আঠারো সালের ফর্মুলা ধরতে হবে। দুইটা ফর্মুলাই আছে।’
বিএনপিকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি লাফাচ্ছে নাকি? আচ্ছা আমি বলছি, আমি বলে দিচ্ছি—বিএনপির এই মাটিতে যিনি জন্ম দিয়েছিলেন, তাকে কিন্তু আপনারাই পরাজিত করেছেন ভোটে। এবং পরাজিত হওয়ার পরে সেই ভদ্রলোক স্ট্রোক করে মরে গেছেন, পৃথিবীতেই নাই। তো এখন ঐখান থেকে কিছু পোকা কীট পতঙ্গের জন্ম হয়েছে হয়ত। সেই কীট পতঙ্গ নিয়ে কথা বলার আমার কোনো দরকার আছে? আমি মনে করি না। ফর্মুলা দুইটাই দিয়েছি আমি। হয় আট সালের ফর্মুলা না হলে আঠারো সালের ফর্মুলা। আমি রাজশাহীতেই আছি, অসুবিধা নাই। আমার গাড়ি নিয়ে এখানে আসতে বেশি সময় লাগবে না।’
বক্তব্যের শেষাংশে আওয়ামী লীগ এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘...থাকবেন, দেখবেন, ভোট করবেন, বিজয়ী হবেন, লাঠি নিবেন, লাঠি খেলা করবেন, বাড়ি চলে যাবেন।’
সংসদ সদস্যের প্রকাশ্যে এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘সংসদ সদস্যের এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর। তার এ বক্তব্য কোনো কর্মী সভায় যায় না। তার বিরুদ্ধে দলের কেন্দ্রেও অনেক অভিযোগ রয়েছে।’
এ বিষয়ে মতামতের জন্য সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি।