খুবি শিক্ষকদের বরখাস্তে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিবাদ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এক শিক্ষককে বরখাস্ত ও দুই শিক্ষককে অপসারণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। 

আজ মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) এ বিষয়ে সারাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ৭১ জন শিক্ষকের সাক্ষরিত এক বিবৃতি প্রদান করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষক জাকিয়া সুলতানা মুক্তা। 

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যুক্ত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী বহিষ্কারের অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে। কেবল শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবিকে সমর্থন করার কারণে একজন শিক্ষককে চাকুরি থেকে বরখাস্ত এবং দু'জন শিক্ষককে অপসারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। বরখাস্তকৃত শিক্ষক হলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল ফজল ও অপসারণকৃত দু'জন শিক্ষক হলেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক শাকিলা আলম এবং ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের হৈমন্তী শুক্লা কাবেরী।’

আরও পড়ুন:  খুবির শিক্ষকদের একজন বরখাস্ত ও দুইজন অপসারণ

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নাটকীয়ভাবে এসমস্ত শিক্ষকদের দোষ প্রমাণ করে শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। নিজের সমস্ত অনিয়ম-দুর্নীতি চাপা দিতে এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে তিন শিক্ষকের শাস্তি নিশ্চিত করতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি তড়িঘড়ি করে এক মাসের মধ্যে দুটো স্পেশাল সিন্ডিকেট ডেকেছেন। এমনকি তিনি সিন্ডিকেট সদস্য পরিবর্তন করেছেন নিয়ম বহির্ভূতভাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্যরা এ সিন্ডিকেটের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন। তারপরও তিনজন তরুণ প্রতিবাদী শিক্ষকদের শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। এটা আমাদের গোটা শিক্ষক সমাজের জন্য অশনিসংকেত। এ শাস্তি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মুক্ত চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পথকে উন্মুক্ত করে দেবে। তাই আমরা সচেতন শিক্ষক সমাজ এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে তিনজন শিক্ষকের বহিষ্কার ও অপসারণ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাই।’

আরও পড়ুন: খুবির সাত শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি

২০২০ সালের ১ ও ২ জানুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন ফি কমানো, আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঐ আন্দোলনের সময়ে দুই শিক্ষকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং আন্দোলনে সমর্থন ও সম্পৃক্ততার অভিযোগে তিন শিক্ষকের অপসারণ প্রক্রিয়া শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনের সামনে আমৃত্যু অনশন শুরু করেন। এ দুই শিক্ষার্থী হলেন- বাংলা ডিসিপ্লিনের মোহাম্মদ মোবারক হোসেন নোমান এবং ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের ইমামুল ইসলাম।

ইত্তেফাক/এসআই