সফল উদ্যোক্তা আরিয়ান

রাফসান বিন রাজ্জাক

নাটোর শহরে বাড়ি আরিয়ান আহমেদের। উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রার স্বপ্ন দেখে যিনি সফল হয়েছেন। বর্তমানে তিনি এসএসবি লেদারের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। ছোটবেলা প্রসঙ্গে বলেন, ‘ওয়ারীতে স্কুলে পড়ার পাশাপাশি আমি খেলাধুলা খুব পছন্দ করতাম। আর্চারির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেই পছন্দটাকে একসময় প্রায় পেশার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। ২০০৪ সালে আর্চারিতে বাংলাদেশ ন্যাশনালে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করি এবং বিকেএসপিতে সাউথ এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করি। তারপর আন্তর্জাতিক এক প্রতিযোগীতায় সিলভার পদক অর্জন করি। প্রসঙ্গত, আর্চারি হান্টিংয়ের মাধ্যমেই আমাকে তুলে এনেছেন ভারতীয় কোচ নিশিত দাস। বলা যায়,  শুরু থেকেই অনেক অভিজ্ঞতামুখর জীবন কেটেছে আমার।’ আরিয়ান আহমেদ ইতিপূর্বে গ্রামীণফোন ও নেসলে বাংলাদেশে চাকরি করেছেন। এই  প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের মাধ্যমেই তার চাকরি জীবনের শুভ সূচনা হয়েছিল। আর চাকরিরত অবস্থায় তিনি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন—তা থেকেই আজকের এই অবস্থানে আসার অনুপ্রেরণা বলে মনে করেন আরিয়ান।  বাংলা শপারস্.কম নামে একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানেও একনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন তিনি। উদ্যোক্তা আরিয়ানের পথচলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চাকরিরত অবস্থায়ই আমি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নবুনি। আর এভাবেই ২০১৬ সালে ঢাকার মানিকনগর এলাকায় একটি শো-রুম (শেভার শপ বাংলাদেশ)  প্রতিষ্ঠা করি। কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের ট্রিমার সারাদেশে ব্যাপক  প্রশংসা অর্জন করে।’ লেদার নিয়ে তার কাজের গল্পটা বেশ মজার। জানালেন সে কথাও, ‘আমি ভারতের কলকাতায় বেড়াতে গিয়ে দেখি—মানুষের হাতে শ্রী লেদারের চামড়াজাত পণ্য। বিষয়টাতে ভীষণ অবাক হই এবং ভাবি, মানুষের ক্রয়সাধ্যের মধ্যে এবং রুচিসমৃদ্ধ চামড়াজাত পণ্য তৈরিকৃত ব্র্যান্ড আমাদের দেশে নেই কেন?’ পরবর্তী সময়ে আমি এই শিল্প সম্পর্কে দেশ এবং বিদেশে গিয়ে বোঝা ও জানার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি। সর্বশেষ জুলাইতে ইভ্যালির একটি অফারে আমাদের নাম সারাদেশে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়। বাংলাদেশ এই একটা প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড তৈরি হোক ‘এসএসবি লেদার’—এমনটিই আমার বর্তমান স্বপ্ন।’ তরুণদের জন্য আরিয়ানের একটাই কথা—যা করবেন মন দিয়ে করেন। জীবন অনেক সুন্দর,  যদি চোখ মেলে দেখা যায়।