এদেশের ব্যান্ড মিউজিকের এক অনন্য নাম শাফিন আহমেদ। মাইলসের প্রধান ভোকালের পাশাপাশি নিজেস্ব ঘরানায় গান করেছেন, সুর বেঁধেছেন। কিংবদন্তী সংগীতজ্ঞ বাবা কমল দাস গুপ্তের গান গেয়ে হয়েছেন প্রশংসিত। একই কণ্ঠে রক ও ক্লাসিক্যাল জনরার গান গেয়ে বিরল মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন তিনি। বর্তমানে নিজেস্ব লেবেল ডাবল বেসের ব্যানারে নিয়মিত গান উপহার দিচ্ছেন। মুক্তি পাচ্ছে একটি আন্তর্জাতিকমানের ইন্সট্রুমেন্টাল। সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে।
সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তানভীর তারেক
কেমন আছেন?
খুব যে ভালো আছি সেটা তো এখন বলা যায় না, আমরা সকলেই আসলে ভালো থাকার চেষ্টায় আছি। নিয়মিত কাজের ভেতরে থাকার চেষ্টা করছি।
নিজের লেবেল কোম্পানিতে গান প্রকাশের আইডিয়া কীভাবে এলো?
এটা নিজের তাগিদ থেকেই এসেছে। নিজেস্ব স্টুডিওটা যখন থেকে করলাম, ভাবলাম এবার নতুনদের নিয়ে কিছু কাজ করবো। সেই থেকেই করা। আর এখন যেহেতু ডিজিটাল প্লাটফর্মেই সবাই গান রিলিজ দিচ্ছে, তাই আলাদা করে সেই চাপও নিলাম না। নিজের মতো করে প্রকাশে এক ধরনের আনন্দ ও স্বাধীনতা পাওয়া যায়। তার মানে এই নয় যে, অন্য লেবেল কোম্পানির ব্যানারে কাজ করবো না। সেটাও হবে। কিন্তু একান্ত নিজের ভালোলাগার কাজগুলো এখানে রিলিজ করতে চাই।
একটা আন্তর্জাতিকমানের কাজ করছেন। দীর্ঘদিন পর একটা ইন্সট্রুমেন্টাল পাচ্ছি। বাংলাদেশি মিউজিশিয়ানদের ভেতরে ইন্সট্রুমেন্টাল তৈরির কথা অনেকেই বলেছেন। কিন্তু কেউই আর করে উঠতে পারেননি। আপনার অভিজ্ঞতা শুনতে চাই—
হ্যাঁ, কিছু ব্যতিক্রমী কাজ উপহার দিতেই নিজের লেবেল কোম্পানি করা। আমার নিজেস্ব ভালোলাগার কাজ এগুলো। তবে এই কাজটি ভীষণ পরিশ্রমের এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প ছিল। পুরো বিষয়টির সংগীতায়োজন করেছেন অর্ণব ভট্টচার্য। ভারতের মিউজিশিয়ান। পাশাপাশি বিভিন্ন ইন্সট্রুমেন্ট বাজিয়েছেন বিশ্বের একাধিক মিউজিশিয়ান। অর্ণব মূলত ইলেক্ট্রিক সরোদ বাজায়। এখানে ইলেক্ট্রিক পিয়ানো বাজিয়েছে ইউরোপের মিউজিশিয়ান সানজার নাফিকভ, পারকাশন বাজিয়েছে আফ্রিকার রিদলিন রঙ্গন, গিটার বাজিয়েছে ভারতের অংকুর ভট্টাচার্য এবং বেস বাজিয়েছি আমি নিজেই।
এই যে বিশ্বের একাধিক মিউজিশিয়ান একবিন্দুতে মিলিত হলেন। কীভাবে সম্ভব হলো? সেটা যদি একটু বলতেন। কীভাবে সমন্বয় করলেন?
দেখুন, বিভিন্ন কাজের সূত্রেই আমাদের একটা কমিউনিটি তৈরি হয়। ভার্চুয়াল এই পৃথিবীতে সেই যোগাযোগটা আরো বেড়েছে। এটা বাংলাদেশে প্রথম কোনো এ রকম ফিউশন ইন্সট্রুমেন্টাল। এটা আমার মিউজিক লেবেল, অর্থাত্ ডাবল বেস প্রডাকশন থেকে করা। পুরো কাজটির পরিকল্পনা ছিল আমার। এরপর অর্ণববের সঙ্গে শেয়ার করি। এরপর দু’জনের পরিকল্পনা থেকেই একটু একটু করে কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাই। আমরা দু’জনই বিভিন্নরকম ডেমো আদান-প্রদান করে পরিশেষে ফাইনাল করেছি।
কীভাবে, কবে মুক্তি পাচ্ছে? আর শিরোনাম কী থাকছে?
এটার একটা স্প্যানিশ নাম থাকছে, এক্সটেসি ডি অতনো। অতনো ইংরেজিতে অটাম, অর্থাত্ বসন্ত। আগামীকাল রিলিজ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আমার নিজেস্ব ইউটিউব চ্যানেলে থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের প্রায় ২০টির ওপরে অডিও প্লাটফর্মে ইন্সট্রুমেন্টালটি রিলিজ হবে।
এদেশের জন্মদিনের গান মানেই আপনি, ভালোবাসা দিবসের গান মানেই আপনার গান। এছাড়া ভালোবাসা দিবসে আপনার জন্মদিন। সেই হিসেবে নিজের বিশেষ এই দিনটিকে কীভাবে প্ল্যান করছেন?
আমার ডাবল বেস প্রডাকশন থেকে এই উপলক্ষে বেশকিছু গান রিলিজ হবে। এমনিতেই আমার লেবেল কোম্পানি থেকে নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে গান রিলিজ হচ্ছে। আমি মনে করি আমি যেহেতু গানের মানুষ, দর্শক-শ্রোতাদের গান উপহার দেওয়াটাও নিজের দায়িত্বই মনে করি। সে কারণে এই করোনা সংকটের ভেতরেও নিয়মিত কাজ করে গিয়েছি। গান বাঁধছি, রিলিজ দিচ্ছি। আমি মনে করি গানটাই একমাত্র একজন মিউজিশিয়ানের মুক্তির পথ, আনন্দের জোগান।