শ্রীপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা
শুকনো মৌসুমেও গড়াই নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে শ্রীপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের আবাদি জমি ও ঘরবাড়ি। ফলে নদীর তীরবর্তী বসবাসকারীরা আতঙ্ক নিয়ে দিনরাত অতিবাহিত করছে। ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বর্ষা মৌসুমের প্রবল বর্ষণ ও তীব্র স্রোতের ফলে এক দফা ভাঙনে আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে বর্ষার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে আবার ভাঙন শুরু হয়। নদীর পানি কমতে থাকায় শুকনো মৌসুমে গত এক মাস যাবত্ নদীর তীরবর্তী এলাকা আবার ভাঙনের কবলে পড়ে। ইতিমধ্যে ভাঙনের ফলে নদীর পাড়ের আবাদি জমি ও ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সর্বস্ব হারিয়ে শত শত পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। বিশেষ করে আমলসার ইউনিয়নের বদনপুর, আমলসার ও টিকারবিলা গ্রাম, দ্বারিয়াপুর ইউনিয়নের চরচৌগাছি, ঘসিয়াল ও গঙ্গারামখালী গ্রাম এবং কাদিরপাড়া ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙনের ফলে নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এবিষয়ে চরচৌগাছি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রোস্তম আলী বলেন, চরচৌগাছি ও ঘসিয়াল গ্রামের প্রায় ৫০০ একর ফসলি জমি এবং অসংখ্য বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার বাড়িঘরসহ সব হারিয়ে সরকারি খালের ধারে আশ্রয় নিয়েছে। এবিষয়ে দ্বারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন কানন জানান, নদীভাঙন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারিভাবে সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। তবে ভাঙনকবলিত এলাকা এমপি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী পরিদর্শন করেছেন। আশা করি, অতি দ্রুতই এর একটি সমাধান হয়ে যাবে।
মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারোয়ার জাহান সুজন জানান, বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচরে আছে। ইতিমধ্যে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও বরাদ্দ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।