মনোহরগঞ্জে উপবৃত্তিবঞ্চিত প্রাথমিকের দেড় হাজার শিক্ষার্থী!

জন্মনিবন্ধন ও সার্ভার সমস্যা

মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

জন্মনিবন্ধন ও সার্ভার সমস্যার কারণে মনোহরগঞ্জের ১০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় হাজার শিশু শিক্ষার্থী উপবৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সার্ভার জটিলতায় বিভিন্ন ইউপিতে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এদিকে ভোগান্তি এড়াতে ও শিশুদের উপবৃত্তির টাকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সহজশর্তে শিশুদের জন্মনিবন্ধনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে অভিভাবকরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সমস্যা সমাধানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ১০ জানুয়ারি নির্দিষ্ট সময় শেষে প্রথম দফায় ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ও দ্বিতীয় দফায় ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করে। কিন্তু দুই দফা সময় বাড়িয়েও নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় উপবৃত্তিবঞ্চিত হচ্ছে জন্মনিবন্ধন করতে না পারা শিশুদের। উপবৃত্তির তালিকাভুক্ত না হওয়ায় উপবৃত্তিবঞ্চিত শিশু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক অভিভাবক জানায়, আগে শিশুরা উপবৃত্তির টাকা পেতে কোনো ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয়নি, কিন্তু এবার জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক হওয়ায় পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। শিশুর জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে যেসব অভিভাবকের জন্মনিবন্ধন নেই তাদেরও নিবন্ধন করতে হয়েছে। এতে আরো জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা সদরের দিশাবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন জানান, বিদ্যালয়ে ১১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ জন উপবৃত্তি তালিকাভুক্ত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে সার্ভার জটিলতায় জন্মনিবন্ধন করতে না পারায় বাকি ৫০ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, এ কার্যক্রমের শুরুতেই বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিশুর জন্মনিবন্ধন নিয়ে বিপাকে পড়ার অভিযোগ করেছেন। উপজেলার ১০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ হাজার ৪৯০ জন শিশুর জন্মনিবন্ধন না থাকায় উপবৃত্তিবঞ্চিত হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, এবার উপবৃত্তির জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়েছে। মূলত ইউনিয়ন পরিষদে সার্ভার সমস্যায় শিশুদের জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। সমস্যা সমাধানে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথা জানান তিনি।