সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যার বিচার ১৬ বছরেও হয়নি

হবিগঞ্জের কৃতী সন্তান সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার বিচারকাজ ১৬ বছরেও শেষ হয়নি। এ ঘটনার তদন্তকাজে সময়ক্ষেপণ হয়েছে প্রায় ১০ বছর। সিআইডি তিন দফা এ মামলার তদন্ত করে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর সিলেট রেঞ্জের সিনিয়র এএসপি মেহেরুন নেছা পারুল ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি সরোয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল জানান, এ মামলায় মোট ১৭১ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৪৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। একই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর চার্জ গঠন করা হয়। আজ উভয় মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য রয়েছে। তিনি আরো জানান, এ মামলার মূল আসামিদের বিরুদ্ধে সারা দেশে জঙ্গি হামলাসংক্রান্ত মামলা রয়েছে। তাদের বিভিন্ন আদালতে হাজির করার জন্য এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করতে হয়। তাই মামলার ধার্য তারিখে সব সময় আসামিকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয় না। এতে মামলার বিচারকাজ বিলম্বিত হচ্ছে। তিনি আরো জানান, এ মামলার আসামিদের মধ্যে তিন জনের ইতিমধ্যে অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এরা হচ্ছে মুফতি আব্দুল হান্নান, শরীফ সাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপন। এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিস চৌধুরীসহ ৯ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। এছাড়া এ মামলার আসামি সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফ চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গৌছসহ জামিনে আছেন ৯ জন।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজার সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগের এক জনসভা শেষে গ্রেনেড হামলায় কিবরিয়া ও তার ভাতিজা মঞ্জুরুল হুদাসহ ৫ নেতাকর্মী নিহত এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনের বর্তমান সাংসদ অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরসহ ৭০ জন আহত হন। ঐ দিন রাতে জেলা আওয়ামী লীগের তত্কালীন সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমান হবিগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান সদর থানায় বাদী হয়ে একটি এজাহার দায়ের করেন।