চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের নির্বাচন আজ বুধবার। একধরনের শঙ্কার মধ্যেই বহু প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যেই মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আওয়ামী লীগ মূলত দলীয় সমর্থক ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি দখলমুক্ত ও নির্বিঘ্ন ভোট নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য শান্তিপূর্ণ ও উত্সবমুখর নির্বাচনের কথা বলছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের নির্বাচন এক অর্থে গত এক বছর ধরে চলে আসছে। গত বছরের প্রথম থেকে এর প্রচার-প্রচারণা শুরু হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তে গত মার্চ মাসের শেষের দিকে বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে স্থগিত হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর গত ডিসেম্বর থেকে আবার নির্বাচনি তত্পরতা শুরু হয়। ৮ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়ে আজ নির্বাচনের মাহেন্দ্রক্ষণ।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাত জন মেয়র পদপ্রার্থী হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী এবং বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। এর বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ৩৭ দফা এবং বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ৯ দফা অঙ্গীকার করে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। প্রত্যেকেই জলাবদ্ধতাকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি জনগণের মধ্যে তুলে ধরেছেন। এর বাইরে একটি করপোরেশনের নগরবাসীর নিকট দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়কবাতি, সড়ক সংস্কার, মশা-মাছির উপদ্রব কমানোসহ প্রাত্যহিক সেবাদানের বিষয়গুলো রয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনি সহিংসতায় দুটি হত্যাকাণ্ড, বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় প্রার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা লক্ষ করা গেছে। পুরো নগরী ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টারে ছেয়ে গেলেও নির্বাচনি প্রচারণায় উভয় দল জনগণকে তুলনামূলকভাবে তেমন একটা মাঠে নামাতে পারেনি। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে মিশ্র অবস্থা বিরাজ করতে দেখা গেছে।