যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে ধস

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা

বেড়া উপজেলার পেঁচাকোলা ও পাইখন্দ নামক দুটি স্থানে যমুনা নদীর তীররক্ষা বাঁধে সম্প্রতি ধস দেখা দিয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে জেলা বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প। দেখা গেছে, পাউবোর কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীর মতে, তীররক্ষা বাঁধের অনেক স্থানই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তীররক্ষা বাঁধের কাছাকাছি যমুনা নদীর বেশ কিছু স্থান থেকে একটি চক্র অবৈধভাবে বালু তুলছে। এছাড়া তীররক্ষা বাঁধের ওপর দিয়ে ট্রাকে করে বালু বহন করা হচ্ছে। ফলে সব মিলিয়ে বাঁধটি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এলাকাবাসী জানান, মাসখানেক হলো বেড়া উপজেলার হাঁটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের পেঁচাকোলা ও বেড়া পৌরসভার পাইখন্দ এলাকায় যমুনার তীররক্ষা বাঁধে ধস দেখা দেয়। শুরুতে তীররক্ষা বাঁধের একটি-দুটি করে সিসি ব্লক ধসে যেতে থাকে। কিন্তু এখন ধসের বিস্তৃতি বেড়েছে। ইতিমধ্যেই ঐ দুটি স্থান থেকে কয়েক শ সিসি ব্লক যমুনায় ধসে গেছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ধস আরো বিস্তৃত হয়ে গোটা এলাকা জুড়ে ভাঙন দেখা দিতে পারে।

পাইখন্দ গ্রামের সহিতন খাতুন ও বুলবুলি খাতুন বলেন, ‘ধস দেখা দেওয়ায় এই গ্রামের সগলেই খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি। এই জায়গায় নদীর স্রোত যেমন বাড়িছে তেমনি ব্যাপক গভীর হয়া গেছে। বালু তোলার জন্যেই আমাগরে বাড়িঘর আজ যমুনায় যাওয়ার উপক্রম হইছে।’ পেঁচাকোলা গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সেল্টু শেখ বলেন, ‘ইতিমধ্যেই কয়েক শ সিসি ব্লক নদীতে চলে গেছে। ধস যেভাবে বেড়ে চলেছে তাতে পেঁচাকোলা গ্রামসহ আশপাশের অন্য গ্রামগুলোতেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।’ 

পাউবোর বেড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, ‘বাঁধের স্বার্থে অবৈধ বালু তোলা যে কোনোভাবে বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন বরাবর চিঠি দিয়েছি। এর পাশাপাশি একাধিকবার যমুনা নদীতে গিয়ে বালু তুলতে উত্তোলনকারীদের নিষেধ করেছি। আর ধসে যাওয়া জায়গা পরিদর্শন করে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহা. সবুর আলী বলেন, ‘বালু তোলার ব্যাপারে এখনো অভিযোগ পাইনি। তবে এমন হয়ে থাকলে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’