আজ ম্যাচ বিকাল ৩টা
সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
মতিঝিলের ক্লাব পাড়ায় মোহামেডান টেন্ট হতে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের দূরত্ব হাঁটার পথ। প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে আবাহনী এই স্টেডিয়ামটি ভেন্যু না করে মোহামেডান চলে গেছে কুমিল্লায়, শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে। সেখানেই মোহামেডানের ভেন্যু। মোহামেডানের যেকয়টি খেলা হবে প্রতিপক্ষ দলগুলোকে সেখানে গিয়ে একটি করে ম্যাচ খেলতে হবে। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে লিগ হবে তাই এক ক্লাব আরেক ক্লাবের বিপক্ষে দুই রাউন্ডে, দুই বার করে খেলবে। মোহামেডানের হোম ম্যাচে আজ আবাহনীকে আমন্ত্রণ। বিকাল ৩টায় এই দুই দলের লড়াই দেখা যাবে টি স্পোর্টসের পর্দায়।
আবাহনীর মতো মোহামেডানও এবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভেন্যু করতে পারত। খরচের খাতা কমানো, দূরে না যেতে চাওয়া, ঘরের আশেপাশে ম্যাচ খেলা, সঙ্গে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার উসিলা দিয়ে ঢাকার বাইরে না যেতে চাওয়াসহ বর্তমান আর্থিক সংকটের মধ্যে এমনটি হলে খুব বেশি অযৌক্তিক মনে হতো না। কিন্তু এসব কারণগুলো অন্যত্র সরিয়ে মোহামেডান ঢাকার বাইরে ভেন্যু করে নিজেকে সংকুচিত না রেখে বরং মেলে ধরেছে। মোহামেডানের সাবেক তারকা ফুটবলার বাদল রায় কুমিল্লার স্টেডিয়ামটি ভেন্যু হিসাবে নির্ধারণ করে গিয়েছিলেন। তাছাড়া মোহামেডানের ঘরে রয়েছে একটি সুন্দর এসি বাস। যোগাযোগ ব্যবস্থায় মোহামেডান ঢাকার অনেক ক্লাবের চেয়েও এগিয়ে। সেই সঙ্গে কুমিল্লায় খেলা হলে প্রয়াত বাদল রায়ের প্রতিও একটা আলাদা ভক্তি শ্রদ্ধা থাকে। এই সঙ্গে আরো একটা বিষয় যোগ করা যায়, সেটি হচ্ছে মোহামেডান আবাহনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাবে কুমিল্লার ফুটবল অনুরাগীরা।
যতই বলা হোক বাদল রায়ের সময়ের মোহামেডান-আবাহনীর জৌলুসে মরিচা পড়েছে, তার পরও এই দুটি নামের প্রতি ফুটবল প্রিয়দের ভালোবাসায় এক ফোঁটাও টান পড়েনি। ফুটবলের আলোচনায় এখনো হূদয় নিংড়ে দিয়েই পুরোনো দিনের কথা বলেন দর্শক। ঢাকা হতে আজ অনেক দর্শক যাবেন এই ম্যাচটির সাক্ষী হতে। যেভাবে অনেক দিন আগে গোপালগঞ্জে গিয়েছিলেন মোহামেডান আবাহনী ম্যাচ দেখতে। এরই মধ্যে কুমিল্লায় সাদাকালো এবং আকাশী নীলের ম্যাচ ঘিরে কুমিল্লার ফুটবল সংগঠকরা বেশ উদ্দীপনা তৈরি করেছেন। স্টেডিয়াম এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার কুমিল্লায় এসেছে মোহামেডান। দুই দিন অনুশীলন করেছে। গতকাল সকালে মোহামেডান এবং গতকালই আবাহনী কুমিল্লায় গিয়ে বিকালে অনুশীলন করে নিজেদের প্রস্তুত করেছে আজকের ম্যাচের জন্য। কুমিল্লা হতে ফোনে মোহামেডানের ফুটবল ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব জানিয়েছেন খুব ঠান্ডা সেখানে। রাতে ঠান্ডা আরো বেড়ে যায়। ঠান্ডা যতই হোক কিংবা টিভির পর্দায় খেলা দেখালেও দর্শক চাইবে চর্মচোখের সাক্ষী হতে চাইবে পোড় খাওয়া দর্শক।