বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বন্দরের গণশৌচাগারের সেপটিক ট্যাংকের ওপর ১০ বছর ধরে বসবাস করছে প্রতিবন্ধী হতদরিদ্র এক পরিবার। মুজিবশতবর্ষের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসনের বর্তমান তালিকায় নাম ওঠেনি এ পরিবারটির। এক খণ্ড জমি ও একটি ঘরের বরাদ্দের জন্য সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছে এ পরিবারটি।
পরিবারের গৃহকর্তার নাম মো. সুমন। আর গৃহিণীর নাম সাথী বেগম। সুমন মানসিক প্রতিবন্ধী, একই সঙ্গে পঙ্গু। সুমনের স্ত্রী সাথী বেগম ইত্তেফাককে জানান, দারিদ্র্যের কারণে মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে পারেননি। এ কারণেই এ ট্যাংকের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। পেশায় সুইপারের কাজ করেন সাথী বেগম। পাঁচ সন্তান নিয়ে মানুষের দানে কোনোভাবে দিন কাটে তার। সাথী বেগম জানান, তার বাড়ি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলায়। সত্-মায়ের যন্ত্রণায় বাড়িতে থাকতে না পেরে ১৭ বছর আগে বরিশালের বাবুগঞ্জে আসেন তিনি। সেখানে পরিচয় হয় বাগেরহাটের মো. সুমনের সঙ্গে। একপর্যায়ে ১৬ বছর পূর্বে তাদের বিয়ে হয়। সংসার জীবনের ৯-১০ বছরের মাথায় এসে একসময় নিখোঁজ হয়ে যান সুমন। বেশ কয়েক মাস পর বরিশাল লঞ্চঘাট থেকে তাকে খুঁজে পেলেও সুমন মানসিক স্মৃতিশক্তি হারানো এবং সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা হারানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এ অবস্থায় চলছে সুমন ও সাথীর পরিবার।
মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষ্যে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের পুনর্বাসনে গৃহনির্মাণ কার্যক্রমের খবরে আশা দেখছিলেন সাথী বেগম। একটি ঘর পাবেন এ আশা থাকলেও সেটি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তালিকায় নাম নেই সুমন-সাথী পরিবারের। নেই তাদের কারো জাতীয় পরিচয়পত্র।
ঐ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুর রহিম জানান, সচেতনতা না থাকায় সুমন-সাথী পরিবারের জাতীয় পরিচয়পত্র করা হয়নি। কোনো মানুষের দয়া আর সাহায্যে কোনোভাবে দুমুঠো খেয়ে জীবন বাঁচে তাদের।
এ ব্যাপারে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম জানান, সুমন-সাথী পরিবারের খবর পেয়ে বুধবার বিকালে ঐ পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। তারা যাতে সহযোগিতা পান এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথাও বলেন তিনি। বাবুগঞ্জ উপজেলায় মোট ১৭০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। এর মধ্যে ১১০টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখনো ৬০টি ঘরের নির্মাণকাজ বাকি রয়েছে।