নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের মামলায় সাময়িক বরখাস্তকৃত কাউন্সিলর ইরফান সেলিমকে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদেরকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আসামির জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেয়।
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ শুনানি করেন।
গত বছরের ২৬ অক্টোবর ধানমন্ডিতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিমের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা মারে ইরফানকে বহনকারী গাড়ি। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় মামলা করা হয়। ঐ মামলায় ইরফান সেলিম ও তার বডিগার্ডকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে বডিগার্ড জাহিদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
গতকাল হাইকোর্টে জামিন শুনানিকালে ইরফানের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, দণ্ডবিধির যেসব ধারায় এ মামলা করা হয়েছে সেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি ছয় মাস। ইতিমধ্যে তিনি পাঁচ মাস ধরে কারাগারে আছেন। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চারটিতে তিনি জামিন পেয়েছেন। এই মামলায় জামিন পেলে তিনি মুক্তি পাবেন।
জামিনের বিরোধিতা করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ বলেন, তিনি এক জন নির্বাচিত কাউন্সিলর। এক জন জনপ্রতিনিধি কীভাবে সরকারি কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলেন। এ কাজ করাটা তার উচিত হয়নি। শুনানি নিয়ে জামিন প্রশ্নে রুল জারি এবং ইনজুরি সার্টিফিকেট দাখিল করতে ইরফানের আইনজীবীকে বলেছে হাইকোর্ট।
ইরফান সেলিম সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিমের ছেলে। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ছিলেন। মামলা দায়ের ও কারাগারে পাঠানোর পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।