মুফতি আব্দুর রহমান আজাদ লালবাগ মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা গ্রহণ শেষে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বাইতুন নূর মসজিদে খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষকতা শুরু করেন। তার পিতার স্বপ্ন পূরণের জন্য আলোকিত মানুষ গড়তে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ, মতিঝিল, উত্তরা, বনানী, রায়েরবাগ, আজিমপুর, মিরপুর ও জুরাইন এলাকায় ৯টি ক্যাডেট মাদ্রাসায় প্রায় ১ হাজার ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষাদান করে আসছেন।
২০২০ সালের জুন মাসে একযোগে ৯টি মাদ্রাসায় হিজড়া, পথশিশু ও বৃদ্ধদের কোরআন শিক্ষা চালু করা হয়। বর্তমানে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজড়া রয়েছেন ১৭৫, পথশিশু ৩২৫ ও বয়স্ক শিক্ষার্থী রয়েছেন ২৯৫ জন। এসব শিক্ষার্থীদের তিনটি সেশনে আরবি ও নৈতিক শিক্ষার ক্লাস নেওয়া হয় সকাল ৯টা থেকে ১১টা, বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ও রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত।
আরও পড়ুন: মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার সুপারিশ
হিজড়া শিক্ষার্থী এরিনা ও মিষ্টি জানান, তার জন্মস্থান রাজধানীর মালিবাগ এলাকায়। কৈশোর বয়সে যখন বুঝতে পারেন তিনি হিজড়া, পরিবার ও বন্ধুমহলে অবহেলিত হয়ে ২০ জন হিজড়া নিয়ে কামরাঙ্গীরচর লোহারপুল বাসাভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ভরণপোষণের জন্য বিভিন্ন মার্কেট ও দোকান থেকে প্রতি সপ্তাহে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে টাকা তুলে অন্যদের নিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন। সেকারণে তার পক্ষে লেখাপড়া করা সম্ভব হয়নি। তবে যখন জানতে পারেন হিজড়াদের জন্য আরবি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তখন তিনিসহ তার অধীনস্থ ২৫ জন হিজড়া দাওয়াতুল কোরআন শিক্ষায় অংশ নেন।
এখন তাদের কোরআন ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ মাওলানা মুফতি মো. আব্দুর রহমান আজাদ জানান, ‘আমার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট থানার কাহলপুর এলাকায়। পিতা ছিলেন তাবলীগ জামাতের সাথি। তাই তার স্বপ্ন ছিল আমি যেন একজন আলেম হয়ে হিজড়া ও পথশিশুদের আলোকিত মানুষ করি। সেই চেষ্টা থেকে এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি।’
আরও পড়ুন: নীতিমালা প্রস্তুত, ক্যাম্পাস খুললেই হলে উঠবে ছাত্রীরা
তিনি জানান, তার ভালো কাজের জন্য অর্থ জোগান দিচ্ছেন চট্টগ্রাম জেলার আলোকিত মানুষ কর্নেল রায়হান উল নবী চৌধুরী। তিনি তার মরহুম পিতা আহমেদ ফেরদৌস বারী চৌধুরী ফাউন্ডেশন থেকে নিয়মিত অর্থ দেওয়ায় প্রায় ৯টি প্রতিষ্ঠানের বাড়িভাড়া ও শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করতে পারছেন। তার ভাষায়—সমাজের বিত্তশালীরা যদি কর্নেল রায়হান উল নবী চৌধুরীর মতো এগিয়ে আসতেন তাহলে হিজড়া, পথশিশু এবং বৃদ্ধদের নৈতিক ও ইসলাম শিক্ষা দিয়ে সমাজকে আলোকিত করা সম্ভব।
ইত্তেফাক/ইউবি